ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতির দৌড়ে রানিং ট্র্যাকে ৪ ‘ম’

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্নই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’।

সংবিধান অনুসারে মো. সাহাবুদ্দিনের স্থলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে এর নিষ্পত্তি হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সেই কারণে এখন সব জায়গায় আলোচনা- কে হচ্ছেন ২৩তম রাষ্ট্রপতি?

রানিং ট্র্যাকে ৪ ‘ম’
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের সময় থেকে রাষ্ট্রপতি পদে চার ‘ম’ আলোচনায় আছে। চার ‘ম’ হলেন-মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মঈন খান ও মুহাম্মদ ইউনূস।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান- তিন জনই বিএনপির শীর্ষ নেতা। বিএনপি নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির হাইকমান্ড মনে করে, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য কঠিন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দলের ক্লিন ইমেজধারী ও সিনিয়র নেতাদের প্রাধান্য দিতে চায় দলটি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংবিধান ও গঠনতন্ত্র মেনেই সঠিক সময়ে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

গণমাধ্যমে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় এলেও দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে গত কয়েক দিন ধরে আলোচনায় এসেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দলের ভেতরের একটা অংশ মির্জা ফখরুল ইসলামকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র বলছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুল তার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরবর্তীকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির দুর্দিনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবেও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তাকে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রাম ও ক্লিন ইমেজের কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকের পদ ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নির্বাচিত হন তিনি।

বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনিও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী। দলের ভেতরেও তিনি সম্মানিত।

ড. আবদুল মঈন খান: স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে মোট চারবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তার বাবাও সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, ক্লিন ইমেজের মিষ্টভাষী হিসেবে ড. মঈন খানকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধারণা করা হচ্ছিল তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো জায়গায় তাকে বসানো হয়নি। সে কারণে তাকেও রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলোচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে তার নাম আলোচনায় এসেছে। ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এই অর্থনীতিবিদ ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও রাষ্ট্রপতি পদে রাখা নিয়ে বিএনপিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল। তিনি গত তিন নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, এমন আলোচনাও ছিল।

নতুন রাষ্ট্রপতি যেভাবে নির্বাচিত হয়
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা।

সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, তার বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং তিনি সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বেলুচিস্তানের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত, ১০ জন নিখোঁজ

রাষ্ট্রপতির দৌড়ে রানিং ট্র্যাকে ৪ ‘ম’

আপডেট সময় : ১২:২৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্নই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’।

সংবিধান অনুসারে মো. সাহাবুদ্দিনের স্থলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে এর নিষ্পত্তি হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সেই কারণে এখন সব জায়গায় আলোচনা- কে হচ্ছেন ২৩তম রাষ্ট্রপতি?

রানিং ট্র্যাকে ৪ ‘ম’
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের সময় থেকে রাষ্ট্রপতি পদে চার ‘ম’ আলোচনায় আছে। চার ‘ম’ হলেন-মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মঈন খান ও মুহাম্মদ ইউনূস।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান- তিন জনই বিএনপির শীর্ষ নেতা। বিএনপি নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির হাইকমান্ড মনে করে, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য কঠিন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দলের ক্লিন ইমেজধারী ও সিনিয়র নেতাদের প্রাধান্য দিতে চায় দলটি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংবিধান ও গঠনতন্ত্র মেনেই সঠিক সময়ে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

গণমাধ্যমে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় এলেও দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে গত কয়েক দিন ধরে আলোচনায় এসেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দলের ভেতরের একটা অংশ মির্জা ফখরুল ইসলামকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র বলছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুল তার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরবর্তীকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির দুর্দিনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবেও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তাকে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রাম ও ক্লিন ইমেজের কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকের পদ ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নির্বাচিত হন তিনি।

বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনিও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী। দলের ভেতরেও তিনি সম্মানিত।

ড. আবদুল মঈন খান: স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে মোট চারবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তার বাবাও সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, ক্লিন ইমেজের মিষ্টভাষী হিসেবে ড. মঈন খানকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধারণা করা হচ্ছিল তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো জায়গায় তাকে বসানো হয়নি। সে কারণে তাকেও রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলোচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে তার নাম আলোচনায় এসেছে। ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এই অর্থনীতিবিদ ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও রাষ্ট্রপতি পদে রাখা নিয়ে বিএনপিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল। তিনি গত তিন নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, এমন আলোচনাও ছিল।

নতুন রাষ্ট্রপতি যেভাবে নির্বাচিত হয়
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা।

সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, তার বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং তিনি সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।