ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ডলারের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীদের আমদানি সক্ষমতা হ্রাস: রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে ১০ দফা সুপারিশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়ন হওয়ায় দেশের ব্যবসায়ীদের পণ্য আমদানির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমানে ডলারের দাম ১২০ টাকার বেশি হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর একক ঋণসীমা (সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট) না বাড়ায় আমদানিকারকরা আগের মতো পর্যাপ্ত পণ্য আনতে পারছেন না। ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকদের মতে, ২০২২ সালে যখন ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন ডলারের দাম ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। বর্তমান উচ্চমূল্যের কারণে একই পরিমাণ ঋণে অনেক কম পণ্য আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ডলার সরবরাহ এবং একক ঋণসীমা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। গত নভেম্বরে তৈরি করা এই প্রতিবেদনটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার ওই প্রতিবেদনে রমজাননির্ভর পণ্য যেমন—ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা, ডাল, গম, পেঁয়াজ ও খেজুর আমদানিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি শুল্ককর কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর ঋণপত্র খোলার পর দেশে পৌঁছাতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে, তাই এখনই প্রয়োজনীয় ডলার সংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া শীতকালে বাসাবাড়িতে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে, যা উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে।

এজন্য রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মিল-কারখানায় ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এরই মধ্যে খেজুরসহ কিছু পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী ১৯ জানুয়ারি টাস্কফোর্সের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রতিবেদনে ১০টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আমদানিনির্ভর পণ্যে ভ্যাট ও উৎসে কর যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, বন্দরগুলোতে পণ্য খালাস দ্রুততর করা এবং পণ্যবাহী যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা।

এছাড়া সরবরাহ সংকটের অজুহাতে কেউ যেন অবৈধ মজুত বা কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় টিসিবি ও ওএমএস কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো এবং রমজানের শুরুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত পণ্য কেনার প্রবণতা বা ‘প্যানিক বায়িং’ রোধে গণমাধ্যমে ইতিবাচক প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান কাটা নিয়ে কৃষকদের অনিশ্চয়তা

ডলারের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীদের আমদানি সক্ষমতা হ্রাস: রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে ১০ দফা সুপারিশ

আপডেট সময় : ১২:১৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়ন হওয়ায় দেশের ব্যবসায়ীদের পণ্য আমদানির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমানে ডলারের দাম ১২০ টাকার বেশি হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর একক ঋণসীমা (সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট) না বাড়ায় আমদানিকারকরা আগের মতো পর্যাপ্ত পণ্য আনতে পারছেন না। ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকদের মতে, ২০২২ সালে যখন ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন ডলারের দাম ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। বর্তমান উচ্চমূল্যের কারণে একই পরিমাণ ঋণে অনেক কম পণ্য আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ডলার সরবরাহ এবং একক ঋণসীমা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। গত নভেম্বরে তৈরি করা এই প্রতিবেদনটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার ওই প্রতিবেদনে রমজাননির্ভর পণ্য যেমন—ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা, ডাল, গম, পেঁয়াজ ও খেজুর আমদানিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি শুল্ককর কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর ঋণপত্র খোলার পর দেশে পৌঁছাতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে, তাই এখনই প্রয়োজনীয় ডলার সংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া শীতকালে বাসাবাড়িতে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে, যা উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে।

এজন্য রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মিল-কারখানায় ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এরই মধ্যে খেজুরসহ কিছু পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী ১৯ জানুয়ারি টাস্কফোর্সের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রতিবেদনে ১০টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আমদানিনির্ভর পণ্যে ভ্যাট ও উৎসে কর যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, বন্দরগুলোতে পণ্য খালাস দ্রুততর করা এবং পণ্যবাহী যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা।

এছাড়া সরবরাহ সংকটের অজুহাতে কেউ যেন অবৈধ মজুত বা কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় টিসিবি ও ওএমএস কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো এবং রমজানের শুরুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত পণ্য কেনার প্রবণতা বা ‘প্যানিক বায়িং’ রোধে গণমাধ্যমে ইতিবাচক প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।