ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান কাটা নিয়ে কৃষকদের অনিশ্চয়তা

মৌসুমের শুরুতেই অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। এরই মধ্যে জেলার প্রায় ৩ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে, যার একটি বড় অংশে কাঁচা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতা ও জমিতে কাদা জমে থাকায় কৃষিযন্ত্র ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জেলার বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, নিচু জমির ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যেসব জমিতে ধান এখনো অক্ষত আছে, সেগুলো দ্রুত ঘরে তোলা কৃষকদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে ১৩৭টি হাওরে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়, যা থেকে বছরে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। তবে, থেমে থেমে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, অনেক জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে এবং বাকিগুলো তোলা নিয়ে তারা শঙ্কিত। মেশিন চলছে না এবং শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। পানির মধ্যে কাদা জমে থাকায় ধান কাটা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, জেলায় বর্তমানে ৫৭৭টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার সচল রয়েছে এবং আরও ১০৮টি মেরামতের অপেক্ষায় আছে। মেশিনগুলো দ্রুত সচল করতে এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হারভেস্টার সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় আশপাশের জেলাগুলোতে চিঠি পাঠানোর কথা বলেছেন এবং ফসল কাটার সময় পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির ফ্যাকাশে পারফরম্যান্সে ইন্টার মিয়ামির ড্রয়ের ধারা অব্যাহত

জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান কাটা নিয়ে কৃষকদের অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০১:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মৌসুমের শুরুতেই অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। এরই মধ্যে জেলার প্রায় ৩ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে, যার একটি বড় অংশে কাঁচা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতা ও জমিতে কাদা জমে থাকায় কৃষিযন্ত্র ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জেলার বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, নিচু জমির ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যেসব জমিতে ধান এখনো অক্ষত আছে, সেগুলো দ্রুত ঘরে তোলা কৃষকদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে ১৩৭টি হাওরে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়, যা থেকে বছরে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। তবে, থেমে থেমে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, অনেক জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে এবং বাকিগুলো তোলা নিয়ে তারা শঙ্কিত। মেশিন চলছে না এবং শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। পানির মধ্যে কাদা জমে থাকায় ধান কাটা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, জেলায় বর্তমানে ৫৭৭টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার সচল রয়েছে এবং আরও ১০৮টি মেরামতের অপেক্ষায় আছে। মেশিনগুলো দ্রুত সচল করতে এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হারভেস্টার সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় আশপাশের জেলাগুলোতে চিঠি পাঠানোর কথা বলেছেন এবং ফসল কাটার সময় পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।