ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আগের মালিকদের হাতে ফিরছে একীভূত ৫ ব্যাংক: সংসদে বিল পাস

দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’। এই নতুন আইন অনুযায়ী, সংকটে পড়ে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক পুনরায় আগের মালিকদের হাতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। এর ফলে এস আলম ও নাসা গ্রুপের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো, যারা আগের সরকারের আমলে এসব ব্যাংকের শেয়ারের বড় অংশের মালিক ছিল, তারা শর্তসাপেক্ষে পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন।

নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী, আগের শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ফিরে পেতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে। তবে শর্ত হিসেবে তাদের একটি বিস্তারিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করতে হবে, যেখানে সরকারের কাছ থেকে নেওয়া সব আর্থিক সহায়তা ফেরত দেওয়া, নতুন মূলধন জোগান এবং আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। এছাড়া ব্যাংকের সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।

মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় আরও বলা হয়েছে, আবেদন অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মালিকদের সরকারের বিনিয়োগ করা অর্থের অন্তত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে জমা দিতে হবে। অবশিষ্ট ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ অর্থ পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে তদারকি করবে এবং শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে মালিকানা বাতিলের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তবে শুধু অঙ্গীকারের ভিত্তিতে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যাদেশ ও সংস্কার ইস্যুতে সরকারের ইউ-টার্ন

আগের মালিকদের হাতে ফিরছে একীভূত ৫ ব্যাংক: সংসদে বিল পাস

আপডেট সময় : ০৭:১৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’। এই নতুন আইন অনুযায়ী, সংকটে পড়ে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক পুনরায় আগের মালিকদের হাতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। এর ফলে এস আলম ও নাসা গ্রুপের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো, যারা আগের সরকারের আমলে এসব ব্যাংকের শেয়ারের বড় অংশের মালিক ছিল, তারা শর্তসাপেক্ষে পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন।

নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী, আগের শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ফিরে পেতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে। তবে শর্ত হিসেবে তাদের একটি বিস্তারিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করতে হবে, যেখানে সরকারের কাছ থেকে নেওয়া সব আর্থিক সহায়তা ফেরত দেওয়া, নতুন মূলধন জোগান এবং আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। এছাড়া ব্যাংকের সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।

মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় আরও বলা হয়েছে, আবেদন অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মালিকদের সরকারের বিনিয়োগ করা অর্থের অন্তত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে জমা দিতে হবে। অবশিষ্ট ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ অর্থ পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে তদারকি করবে এবং শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে মালিকানা বাতিলের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তবে শুধু অঙ্গীকারের ভিত্তিতে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।