সভ্যতার সাক্ষী ভূমধ্যসাগরের স্বচ্ছ জলরাশি আজ পরিণত হয়েছে অসংখ্য তরুণ-তরুণীর অচিহ্নিত গোরস্থানে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জেনারেশন জেড (জেনজি), যারা নতুন প্রজন্ম, স্বপ্নবাজ ও প্রযুক্তিনির্ভর, তাদের অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে হারিয়ে ফেলছে প্রাণ। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের কয়েকটি গ্রামে একই বয়সের আটজন তরুণের সলিলসমাধি এই ভয়াবহ বাস্তবতার এক মর্মান্তিক উদাহরণ। প্রায়শই গণমাধ্যমে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রচারিত হলেও তা আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নীতিগত ব্যর্থতার বহুমাত্রিক চিত্রকেই তুলে ধরে।
প্রশ্ন হলো, কেন আমাদের কোমলমতি জেনজিরা এত ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছে? এর উত্তর খুঁজতে গেলে তাদের মানসিকতা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বোঝা জরুরি। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে জেনজি প্রজন্ম ইউরোপের জীবনযাত্রা, স্বাধীনতা, উচ্চ আয়ের সুযোগ এবং উন্নত সামাজিক নিরাপত্তার ছবি প্রতিনিয়ত দেখছে। এই আকর্ষণীয় চিত্রগুলো তাদের মনে এক ধরনের ‘গ্লোবাল লাইফস্টাইল’-এর আকাঙ্ক্ষা তৈরি করছে। তবে, অভিবাসন নীতির কঠোরতা, বর্ণবৈষম্য ও শ্রমবাজারের প্রতিযোগিতা—এই বাস্তবতার অন্ধকার দিকগুলো প্রায়শই তাদের সামনে আসে না।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এই প্রবণতাকে উস্কে দিচ্ছে। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক তরুণ উচ্চশিক্ষা শেষ করে কর্মসংস্থানের সন্ধানে বেরোলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত চাকরির অভাব রয়েছে। অনেকেই শিক্ষিত বেকার অথবা আংশিক বেকার হিসেবে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই হতাশা ও অনিশ্চয়তা থেকে জন্ম নিচ্ছে এক ধরনের ‘এ দেশে কিছু হবে না’—এই মানসিকতা। ফলে, বিদেশে যাওয়াকেই তারা একমাত্র বিকল্প হিসেবে দেখছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক মানসিকতা। আমাদের সমাজে বিদেশফেরত বা প্রবাসীদের প্রতি এক ধরনের অতিরিক্ত সম্মান ও আকর্ষণ কাজ করে। কেউ ইউরোপে পৌঁছাতে পারলে তাকে সফল হিসেবে দেখা হয়, তার সংগ্রাম বা কষ্টের গল্পগুলো আড়ালে চলে যায় এবং কেবল বাহ্যিক সাফল্যই বেশি প্রচারিত হয়। এটি অন্য তরুণদের মধ্যেও একই পথ অনুসরণের আগ্রহ তৈরি করছে।
রিপোর্টারের নাম 



















