বর্তমান সময়ের ছোট পর্দার পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ মারিয়া শান্ত। ‘নাম রেখেছি প্রেমিক’, ‘ফুলবাহার’, ‘পরাণের আধখান’, ‘বুক পকেটের গল্প’ এবং সাম্প্রতিক সময়ে ‘সানগ্লাস’ ও ‘হৃদয় গভীরে’র মতো নাটকে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। টেলিভিশন নাটকে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণের পর এবার ক্যারিয়ারের নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। নির্মাতা রায়হান রাফীর নতুন সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে তার।
সম্প্রতি প্রচারিত ‘হৃদয় গভীরে’ নাটকে মারিয়ার অভিনীত চরিত্রটি ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। সেখানে তার চরিত্রের মানবিক ও স্বাধীনচেতা সত্তার পাশাপাশি কিছুটা স্বার্থপর দিকও ফুটে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে মারিয়া জানান, অভিনয়ের সময় তিনি বিষয়টি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে না পারলেও কাজ শেষে গল্পের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেখে তার কোনো আক্ষেপ নেই। মারিয়ার মতে, গল্পের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও চরিত্রের গভীরতা অনুধাবনে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে।
অভিনয় নিয়ে মারিয়া শান্তর ভাবনা বেশ স্বচ্ছ ও সুদূরপ্রসারী। তিনি মনে করেন, স্রেফ অভিনয়ের জন্য অভিনয় নয়, বরং গল্পের ভেতরে ঢুকে চরিত্রকে ধারণ করাটাই আসল সার্থকতা। তিনি এমন সব গল্পে কাজ করতে আগ্রহী যা সাধারণ মানুষকে ভাবাবে এবং যেখানে সমাজের চেনা প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাওয়া যাবে। বিশেষ করে পর্দার আড়ালে থাকা মানুষের জীবন সংগ্রামকে রূপালি পর্দায় ফুটিয়ে তোলাকে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন। নিজের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এসব চরিত্রের জীবনধারা ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে চেষ্টা করেন তিনি। মারিয়া নিজেকে একজন ‘পরিচালকনির্ভর’ অভিনেত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তার মতে, নির্মাতাদের দিকনির্দেশনাই তাকে প্রতিটি কাজে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগায়।
বর্তমানে ছোট পর্দার অনেক অভিনয়শিল্পী নির্দিষ্ট জুটিতে আটকে থাকলেও মারিয়া এখনই সে পথে হাঁটতে নারাজ। ক্যারিয়ারের এই প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেকে কোনো গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করতে চান না তিনি। বরং বিভিন্ন অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে কাজ করে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করতে চান। মারিয়ার লক্ষ্য এখন অভিনয়কে আরও পরিণত ও মজবুত করা। ভবিষ্যতে কার সঙ্গে তার জুটি গড়ে উঠবে, তা সময়ের ওপরই ছেড়ে দিতে চান এই অভিনেত্রী।
চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে মারিয়া জানান, বড় পর্দার অভিনেত্রী হওয়ার পরিকল্পনা তার আগে থেকে ছিল না। তবে রায়হান রাফীর মতো গুণী নির্মাতার কাছ থেকে ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার প্রস্তাব পেয়ে তিনি আর না করতে পারেননি। সিনেমার গল্প এবং চরিত্রের গভীরতা তাকে এই নতুন যাত্রায় যুক্ত হতে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে। ছোট পর্দার সাফল্যের রেশ ধরে বড় পর্দাতেও মারিয়া শান্ত নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
রিপোর্টারের নাম 

























