ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য বনাম তুর্কি নাগরিকের গল্প

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

## দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে লেখকের জবাব: ব্যক্তি বনাম রাজনৈতিক এজেন্ডা

ঢাকা: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি কর্তৃক তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্ন এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন একজন বিশিষ্ট নাগরিক। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর তুর্কি নাগরিকত্ব প্রাপ্তির বিষয়টি নতুন নয় এবং এটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে, কিছু মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন।

প্রেক্ষাপট:
লেখক জানান, ২০১৯ সালে মালয়েশিয়ায় পিএইচডি অধ্যয়নকালে তিনি তুরস্কের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মের্ভে কাভাকুচির মাধ্যমে দেশটির উচ্চ মহলের সঙ্গে পরিচিত হন। মের্ভে কাভাকুচি, যিনি নব্বইয়ের দশকে তুরস্কে হিজাব পরিধানের কারণে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন এবং অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তাঁর পারিবারিক পরিচয়ও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর বাবা ড. ইউসুফ জিয়া কাভাকুচি এবং মা গুলহান কাভাকুচি দুজনেই প্রখ্যাত স্কলার ও অধ্যাপক ছিলেন, যারা তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। এই পারিবারিক পটভূমি লেখকের মতে, ইসলামপন্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানকে খাটো করে দেখা সুশীল সমাজের ধারণার বিপরীতে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

নাগরিকত্ব প্রাপ্তির কারণ:
মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন লেখক তাঁর স্ত্রীর ভিসা এবং নিজের বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার মতো জটিলতার সম্মুখীন হন। এই পরিস্থিতিতে, তুরস্কের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মের্ভে কাভাকুচি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন প্রবীণ নেতা তাঁকে তুরস্কে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেন। তিনি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তুরস্কে যান এবং ২০২০ সালের জুন মাসে তুর্কি নাগরিকত্ব লাভ করেন। এই নাগরিকত্ব প্রাপ্তির বিষয়টি তিনি তখনই তাঁর পরিচিত মহলে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং এটি কোনো গোপন বিষয় ছিল না।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও বিদ্বেষ:
লেখক অভিযোগ করেন যে, তাঁর তুর্কি নাগরিকত্ব নিয়ে সম্প্রতি যে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, তার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি তিনি যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের নাগরিক হতেন, তবে কি এই ধরনের প্রচারণার সৃষ্টি হতো? তাঁর মতে, যারা পশ্চিমা দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের মধ্যে তুরস্কের মতো মুসলিম দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে এক ধরনের বিদ্বেষ কাজ করে। তিনি মনে করেন, এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক প্রবণতা, যেখানে পশ্চিমা নাগরিকত্বকে গৌরবের এবং মুসলিম দেশের নাগরিকত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করেন যে, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয়।

ভারতের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক:
লেখক ভারতের সঙ্গে তুরস্কের তিক্ত সম্পর্ককেও তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত তুরস্ককে শত্রুরাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়। তিনি বিএনপি সাইবার সেলের কিছু সদস্যের সঙ্গে ভারতীয় কট্টর হিন্দুত্ববাদী মিডিয়ার আদর্শিক মিল খুঁজে পান, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী নাগরিকদের জন্য উদ্বেগজনক বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপি প্রসঙ্গে:
বিএনপির সাইবার সেলের সদস্যদের তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের অবক্ষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েছিলেন। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির কিছু নতুন বন্ধু, যারা দলের প্রতি অনুগত নন বলে তিনি মনে করেন, তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বিএনপি মহাসচিব অনুষ্ঠানে সবাইকে মন খুলে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন যে, তাঁর কোনো লেখা বা বক্তব্যে ‘জুলাই বিপ্লব’-এ কোনো অবদান আছে এমন দাবি তিনি কখনো করেননি। সাইবার সেল তাঁকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে টেনে এনে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের খাটো করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ:
লেখক বলেন যে, আগামী নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সর্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তিনি তারেক রহমানের ‘প্ল্যান’ উল্লেখ করে বলেন যে, বাস্তবতার নিরিখে সেই পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নির্বাচনমুখী হওয়া এবং নিজেদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব পরিহার করা।

সংক্ষেপে:
লেখক তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি স্পষ্ট করার পাশাপাশি, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছেন। তিনি মনে করেন, ব্যক্তি অধিকারের চেয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং বিদ্বেষই এই বিতর্কের মূল কারণ। তিনি বিএনপির নেতাদের আত্মসমালোচনা এবং দলীয় কোন্দল পরিহার করে নির্বাচনের দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমি বিরোধে পীরগাছায় বৃদ্ধ খুন, আহত ২

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য বনাম তুর্কি নাগরিকের গল্প

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

## দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে লেখকের জবাব: ব্যক্তি বনাম রাজনৈতিক এজেন্ডা

ঢাকা: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি কর্তৃক তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্ন এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন একজন বিশিষ্ট নাগরিক। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর তুর্কি নাগরিকত্ব প্রাপ্তির বিষয়টি নতুন নয় এবং এটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে, কিছু মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন।

প্রেক্ষাপট:
লেখক জানান, ২০১৯ সালে মালয়েশিয়ায় পিএইচডি অধ্যয়নকালে তিনি তুরস্কের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মের্ভে কাভাকুচির মাধ্যমে দেশটির উচ্চ মহলের সঙ্গে পরিচিত হন। মের্ভে কাভাকুচি, যিনি নব্বইয়ের দশকে তুরস্কে হিজাব পরিধানের কারণে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন এবং অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তাঁর পারিবারিক পরিচয়ও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর বাবা ড. ইউসুফ জিয়া কাভাকুচি এবং মা গুলহান কাভাকুচি দুজনেই প্রখ্যাত স্কলার ও অধ্যাপক ছিলেন, যারা তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। এই পারিবারিক পটভূমি লেখকের মতে, ইসলামপন্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানকে খাটো করে দেখা সুশীল সমাজের ধারণার বিপরীতে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

নাগরিকত্ব প্রাপ্তির কারণ:
মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন লেখক তাঁর স্ত্রীর ভিসা এবং নিজের বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার মতো জটিলতার সম্মুখীন হন। এই পরিস্থিতিতে, তুরস্কের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মের্ভে কাভাকুচি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন প্রবীণ নেতা তাঁকে তুরস্কে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেন। তিনি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তুরস্কে যান এবং ২০২০ সালের জুন মাসে তুর্কি নাগরিকত্ব লাভ করেন। এই নাগরিকত্ব প্রাপ্তির বিষয়টি তিনি তখনই তাঁর পরিচিত মহলে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং এটি কোনো গোপন বিষয় ছিল না।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও বিদ্বেষ:
লেখক অভিযোগ করেন যে, তাঁর তুর্কি নাগরিকত্ব নিয়ে সম্প্রতি যে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, তার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি তিনি যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের নাগরিক হতেন, তবে কি এই ধরনের প্রচারণার সৃষ্টি হতো? তাঁর মতে, যারা পশ্চিমা দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের মধ্যে তুরস্কের মতো মুসলিম দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে এক ধরনের বিদ্বেষ কাজ করে। তিনি মনে করেন, এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক প্রবণতা, যেখানে পশ্চিমা নাগরিকত্বকে গৌরবের এবং মুসলিম দেশের নাগরিকত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করেন যে, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয়।

ভারতের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক:
লেখক ভারতের সঙ্গে তুরস্কের তিক্ত সম্পর্ককেও তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত তুরস্ককে শত্রুরাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়। তিনি বিএনপি সাইবার সেলের কিছু সদস্যের সঙ্গে ভারতীয় কট্টর হিন্দুত্ববাদী মিডিয়ার আদর্শিক মিল খুঁজে পান, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী নাগরিকদের জন্য উদ্বেগজনক বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপি প্রসঙ্গে:
বিএনপির সাইবার সেলের সদস্যদের তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের অবক্ষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েছিলেন। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির কিছু নতুন বন্ধু, যারা দলের প্রতি অনুগত নন বলে তিনি মনে করেন, তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বিএনপি মহাসচিব অনুষ্ঠানে সবাইকে মন খুলে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন যে, তাঁর কোনো লেখা বা বক্তব্যে ‘জুলাই বিপ্লব’-এ কোনো অবদান আছে এমন দাবি তিনি কখনো করেননি। সাইবার সেল তাঁকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে টেনে এনে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের খাটো করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ:
লেখক বলেন যে, আগামী নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সর্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তিনি তারেক রহমানের ‘প্ল্যান’ উল্লেখ করে বলেন যে, বাস্তবতার নিরিখে সেই পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নির্বাচনমুখী হওয়া এবং নিজেদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব পরিহার করা।

সংক্ষেপে:
লেখক তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি স্পষ্ট করার পাশাপাশি, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছেন। তিনি মনে করেন, ব্যক্তি অধিকারের চেয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং বিদ্বেষই এই বিতর্কের মূল কারণ। তিনি বিএনপির নেতাদের আত্মসমালোচনা এবং দলীয় কোন্দল পরিহার করে নির্বাচনের দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।