বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে জিম্বাবুয়ে হয়তো এখন আর আগের মতো পরাশক্তি নয়, তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে দেশটির ক্রিকেটাররা বারবারই জানান দিচ্ছেন তাদের সামর্থ্যের। চলতি বিশ্বকাপে তেমনই এক বিস্ময় হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন তরুণ ব্যাটার ব্রায়ান বেনেট। ছোট দলের ক্রিকেটার হওয়ায় প্রচারের আলোয় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও, বাইশ গজে তার ব্যাট কথা বলছে চড়া সুরে। এমনকি বিরাট কোহলির মতো কিংবদন্তিকে টপকে এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড এখন এই জিম্বাবুইয়ানের দখলে।
বেনেটের এই উত্থান যতটা রোমাঞ্চকর, ততটাই নাটকীয়। ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ইনিংসের পর সংবাদ সম্মেলনে যখন এক সাংবাদিক খোদ বেনেটকেই প্রশ্ন করে বসেন—কেন তাকে সেঞ্চুরির সুযোগ দেওয়া হলো না, তখন এক মুহূর্তের স্তব্ধতা নেমে আসে। বিনয়ের সাথে বেনেট শুধু উত্তর দেন, ‘দুঃখিত, আমিই বেনেট।’ এই ছোট ঘটনাটিই বলে দেয়, সামর্থ্য থাকলেও বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পেতে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয় ছোট দলের ক্রিকেটারদের। তবে সাংবাদিকরা তাকে চিনতে ভুল করলেও, প্রতিপক্ষের বোলাররা তাকে ঠিকই চিনেছেন তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে।
পরিসংখ্যান বলছে, এবারের আসরে পাঁচ ইনিংসে ১৩৫.৭৮ স্ট্রাইক রেটে বেনেট সংগ্রহ করেছেন ২৭৭ রান। যার মধ্যে রয়েছে তিনটি দৃষ্টিনন্দন হাফ সেঞ্চুরি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মতো শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিপক্ষেও তিনি মাঠ ছেড়েছেন অপরাজিত থেকে। চার ইনিংসে আউট না হওয়ায় তার ব্যাটিং গড় দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য ২৭৭-এ! ছোট দলের কোনো ব্যাটারের জন্য বিশ্বমঞ্চে এমন ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এক কথায় ইতিহাস।
এই দুর্দান্ত ফর্ম বেনেটকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য এক উচ্চতায়। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিরাট কোহলি তিনটি অপরাজিত ইনিংসে ২২৬ রান করে যে মাইলফলক গড়েছিলেন, বেনেট এবার সেটি ভেঙে দিয়েছেন। চার অপরাজিত ইনিংসে ২৭২ রান করে কোহলির সেই পুরনো কীর্তিকে নিজের করে নিয়েছেন তিনি। জশপ্রীত বুমরাহর বলে ছক্কা হাঁকানো কিংবা অক্ষর প্যাটেলের এক ওভারে ২২ রান তোলা—সবই বেনেটের অদম্য সাহসিকতার প্রমাণ দেয়।
সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও বেনেটের সামনে সুযোগ থাকছে নিজের এই মহাকাব্যিক পথচলাকে আরও দীর্ঘ করার। বড় দলের ভিড়ে ছোট দলের এই তারকার জ্বলে ওঠা ক্রিকেট বিশ্বের জন্য এক পজিটিভ বার্তা। বেনেটের এই ২৭৭ রানের দীপ্তি আর বড় বোলারদের বিপক্ষে নির্ভীকতা এখন একটিই প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—তিনি কি কেবল উত্থানের পথে, নাকি জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে এক নতুন নক্ষত্রের স্থায়ী অভিষেক হয়ে গেল? উত্তরটা সময়ের কাছে তোলা থাকলেও, বেনেট যে নিজের জাত চিনিয়েছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
রিপোর্টারের নাম 























