সিলেটে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে বন্যা ও নদীভাঙন প্রতিরোধে নেওয়া প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। শনিবার দুপুরে নগরীর সার্কিট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, সিলেট অঞ্চলে বন্যা প্রতিরোধ এবং নদীভাঙনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশ কিছু প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং আরও নতুন প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। যেসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে। হাওর রক্ষাবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ও খাল খননের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে প্রায়শই বন্যা দেখা দেয়, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকালে কাজের মান এবং সময়সীমা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির ব্যাধি থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, জনসাধারণের প্রয়োজন মেটাতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এই লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ঈদের আগেই শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ করা হবে। তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আগাম প্রস্তুতি হিসেবে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সাথেও একই ধরনের চুক্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের বাইরে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার জন্য সরকার কাজ করছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল আশা করা যায়। এছাড়া, স্পেনে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সময়মতো পৌঁছানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
মতবিনিময় সভা শেষে পানিসম্পদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী সুরমা এবং চেঙ্গার নদী এলাকা পরিদর্শন করেন, যা ভাঙনকবলিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
রিপোর্টারের নাম 























