ঢাকা ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

জাতীয়তাবাদী শিল্পীদের নবগঠিত কমিটিতে মনির উদ্দিন ও সঞ্জয় কুমার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত চারু ও কারুশিল্পীদের একটি নতুন সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চারু ও কারুশিল্পী দল’-এর ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে। এই নবগঠিত কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শেখ মনির উদ্দিনকে সভাপতি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে-কে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রসার এবং দেশের শিল্পীদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি আদায়ে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী ধারার শিল্পী ও কারুশিল্পীরা সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকলেও নানা প্রতিকূলতার কারণে আনুষ্ঠানিক কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে, করোনাকালীন সংকট এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ে তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বর্তমান গণতান্ত্রিক পুনরুজ্জীবনের প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

এই সংগঠনের গঠনে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার।

ঘোষিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শিল্পী ড. মো. মফিদুল আলম খান। এছাড়া, মিজানুর রহমান লিমনকে সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কিউ এইচ এম ওয়াহিদুজ্জামান রাজনকে সাংগঠনিক সম্পাদক, মো. রকিবুল হাসানকে সহ-সভাপতি, অপু চৌধুরীকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, খোরশেদ আলমকে প্রচার সম্পাদক এবং নাহিন মাহমুদকে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল দায়িত্ব পালন করবেন। উপদেষ্টা পরিষদে আরও যুক্ত হয়েছেন চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিল্পী দেবাশীষ পাল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যকলা বিভাগের উপ-পরিচালক শিল্পী সরকার জিয়া উদ্দিন আহাম্মদ, চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিল্পী মো. আব্দুল আযীয এবং চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিল্পী মুকুল কুমার বাড়ৈ।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভৌগোলিক কাঠামোর সাংস্কৃতিক বিকাশ অপরিহার্য। বাংলাদেশে সৃজনশীল পেশার সঙ্গে যুক্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ থাকা সত্ত্বেও তাদের পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো সীমিত। বিশ্ববাজারে শিল্প ও কারুশিল্পের গুরুত্ব বাড়লেও দেশে এই খাতের সঙ্গে জড়িতদের স্বীকৃতি ও অধিকারের ক্ষেত্রে কাঠামোগত ঘাটতি বিদ্যমান। এই বাস্তবতার নিরিখেই জাতীয়তাবাদী চেতনায় শিল্পীদের একটি সুসংহত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।

নবগঠিত এই সংগঠনে দেশের প্রথিতযশা চারুশিল্পীদের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের প্রতিনিধিরাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে রিকশাচিত্র, নকশীকাঁথা, শীতলপাটি, দারুশিল্প, মৃৎশিল্প এবং জামদানী শিল্পের মতো বিভিন্ন শাখার শিল্পীরা রয়েছেন। প্রান্তিক কারুশিল্পীদের অধিকার সুরক্ষা, সংস্কৃতির মৌলিক উপাদানের সঠিক চর্চা এবং শিল্পকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনটির ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া-র গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাকে শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করাই সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইল-মার্কিন যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত, ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

জাতীয়তাবাদী শিল্পীদের নবগঠিত কমিটিতে মনির উদ্দিন ও সঞ্জয় কুমার

আপডেট সময় : ০৬:২৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত চারু ও কারুশিল্পীদের একটি নতুন সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চারু ও কারুশিল্পী দল’-এর ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে। এই নবগঠিত কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শেখ মনির উদ্দিনকে সভাপতি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে-কে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রসার এবং দেশের শিল্পীদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি আদায়ে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী ধারার শিল্পী ও কারুশিল্পীরা সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকলেও নানা প্রতিকূলতার কারণে আনুষ্ঠানিক কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে, করোনাকালীন সংকট এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ে তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বর্তমান গণতান্ত্রিক পুনরুজ্জীবনের প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

এই সংগঠনের গঠনে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার।

ঘোষিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শিল্পী ড. মো. মফিদুল আলম খান। এছাড়া, মিজানুর রহমান লিমনকে সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কিউ এইচ এম ওয়াহিদুজ্জামান রাজনকে সাংগঠনিক সম্পাদক, মো. রকিবুল হাসানকে সহ-সভাপতি, অপু চৌধুরীকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, খোরশেদ আলমকে প্রচার সম্পাদক এবং নাহিন মাহমুদকে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল দায়িত্ব পালন করবেন। উপদেষ্টা পরিষদে আরও যুক্ত হয়েছেন চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিল্পী দেবাশীষ পাল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যকলা বিভাগের উপ-পরিচালক শিল্পী সরকার জিয়া উদ্দিন আহাম্মদ, চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিল্পী মো. আব্দুল আযীয এবং চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিল্পী মুকুল কুমার বাড়ৈ।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভৌগোলিক কাঠামোর সাংস্কৃতিক বিকাশ অপরিহার্য। বাংলাদেশে সৃজনশীল পেশার সঙ্গে যুক্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ থাকা সত্ত্বেও তাদের পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো সীমিত। বিশ্ববাজারে শিল্প ও কারুশিল্পের গুরুত্ব বাড়লেও দেশে এই খাতের সঙ্গে জড়িতদের স্বীকৃতি ও অধিকারের ক্ষেত্রে কাঠামোগত ঘাটতি বিদ্যমান। এই বাস্তবতার নিরিখেই জাতীয়তাবাদী চেতনায় শিল্পীদের একটি সুসংহত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।

নবগঠিত এই সংগঠনে দেশের প্রথিতযশা চারুশিল্পীদের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের প্রতিনিধিরাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে রিকশাচিত্র, নকশীকাঁথা, শীতলপাটি, দারুশিল্প, মৃৎশিল্প এবং জামদানী শিল্পের মতো বিভিন্ন শাখার শিল্পীরা রয়েছেন। প্রান্তিক কারুশিল্পীদের অধিকার সুরক্ষা, সংস্কৃতির মৌলিক উপাদানের সঠিক চর্চা এবং শিল্পকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনটির ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া-র গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাকে শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করাই সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য।