ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ইন্তেকাল: কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারি?

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব সৃষ্টিকারী ঘটনা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ইন্তেকালের খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। ৮৬ বছর বয়সী এই প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতার প্রয়াণে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এলেও তার মৃত্যুর কারণ কিংবা পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন, সে বিষয়ে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো খামেনির মৃত্যুর খবর প্রচার করলেও, তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা বা আকস্মিক মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। এই পরিস্থিতিতে এখন দেশটির রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে হচ্ছেন খামেনির উত্তরসূরি এবং কীভাবে নির্ধারিত হবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদটি শূন্য হলে ‘বিশেষজ্ঞমণ্ডলী’ বা ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ নামে পরিচিত ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ পরবর্তী নেতা নির্বাচন করে থাকে। এই পরিষদই রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে বেছে নেয়।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নীতি নির্ধারণে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিলেন।

বিশেষজ্ঞমণ্ডলীর সদস্যরা প্রতি আট বছর অন্তর নির্বাচিত হন। তবে এই মণ্ডলীর সদস্য পদের জন্য কারা প্রার্থী হতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে থাকে দেশটির ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’ নামে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি। মজার বিষয় হলো, এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাই। এর ফলে সর্বোচ্চ নেতার পদে কে আসবেন, সেই প্রক্রিয়াটি অনেকাংশেই বর্তমান নেতৃত্বের প্রভাবাধীন থাকে।

উল্লেখ্য, এর আগে এক সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। যদিও সেই দাবির সত্যতা তখন প্রমাণিত হয়নি, তবে খামেনির প্রয়াণের এই খবর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ইন্তেকাল: কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারি?

আপডেট সময় : ০৯:২১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব সৃষ্টিকারী ঘটনা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ইন্তেকালের খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। ৮৬ বছর বয়সী এই প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতার প্রয়াণে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এলেও তার মৃত্যুর কারণ কিংবা পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন, সে বিষয়ে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো খামেনির মৃত্যুর খবর প্রচার করলেও, তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা বা আকস্মিক মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। এই পরিস্থিতিতে এখন দেশটির রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে হচ্ছেন খামেনির উত্তরসূরি এবং কীভাবে নির্ধারিত হবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদটি শূন্য হলে ‘বিশেষজ্ঞমণ্ডলী’ বা ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ নামে পরিচিত ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ পরবর্তী নেতা নির্বাচন করে থাকে। এই পরিষদই রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে বেছে নেয়।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নীতি নির্ধারণে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিলেন।

বিশেষজ্ঞমণ্ডলীর সদস্যরা প্রতি আট বছর অন্তর নির্বাচিত হন। তবে এই মণ্ডলীর সদস্য পদের জন্য কারা প্রার্থী হতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে থাকে দেশটির ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’ নামে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি। মজার বিষয় হলো, এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাই। এর ফলে সর্বোচ্চ নেতার পদে কে আসবেন, সেই প্রক্রিয়াটি অনেকাংশেই বর্তমান নেতৃত্বের প্রভাবাধীন থাকে।

উল্লেখ্য, এর আগে এক সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। যদিও সেই দাবির সত্যতা তখন প্রমাণিত হয়নি, তবে খামেনির প্রয়াণের এই খবর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।