ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিরপরাধ আ.লীগ কর্মীদের হয়রানি: থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি হারুনুর রশীদের

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হারুনুর রশীদ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ক্ষমতাসীন দলের নিরপরাধ নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি বা গ্রেফতার করা হলে তিনি জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে থানা ঘেরাও করবেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা এলাকায় কল্যাণপুর যুব সংঘের আয়োজিত এক নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

হারুনুর রশীদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিজস্ব কোনো প্রতীক নেই। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন, তা সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তারা চাইলে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকেও সমর্থন করতে পারেন। তবে, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার অজুহাতে কাউকে হয়রানি করা বা অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যেই এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যেখানে কেবলমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা নেই, তাদের যেন কোনো অবস্থাতেই হয়রানি করা না হয়। অন্যথায়, তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি দেবেন।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা স্মরণ করিয়ে দেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘরে বসে থেকেও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখন যদি নিরপরাধ মানুষকে একই কায়দায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আটক করা হয়, তাহলে পূর্ববর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য কোথায়? হারুনুর রশীদ জোর দিয়ে বলেন, দেশের সকল আওয়ামী লীগ কর্মীই অপরাধী নন।

নির্বাচিত হলে প্রশাসনকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার আওতায় আনার অঙ্গীকার করে হারুনুর রশীদ বলেন, তার ক্ষমতার উৎস হবে সাধারণ জনগণ। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো ধরনের অন্যায়, চাঁদাবাজি বা দখলদারি চলতে দেওয়া হবে না। তার রাজনৈতিক পরিচয় বা সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হওয়ার অজুহাতে কেউ অন্যায় করলে কোনো ছাড় পাবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। মানুষকে নিরাপত্তা বা সেবা পেতে থানা কিংবা ভূমি অফিসে ঘুষের লেনদেন দেখতে চান না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তিনি যুব সমাজের সর্বাত্মক সমর্থন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সুলতানুল ইসলাম সুলতান, জেলা তাঁতি দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান, পৌর যুবদলের সদস্য আব্দুর রহিম, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী এবং সাবেক কাউন্সিলর ইফতেখার আহমেদ রঞ্জুসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান রাজধানীতে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ, সীমান্তে চরম উত্তেজনা

নিরপরাধ আ.লীগ কর্মীদের হয়রানি: থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি হারুনুর রশীদের

আপডেট সময় : ০৩:৩০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হারুনুর রশীদ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ক্ষমতাসীন দলের নিরপরাধ নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি বা গ্রেফতার করা হলে তিনি জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে থানা ঘেরাও করবেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা এলাকায় কল্যাণপুর যুব সংঘের আয়োজিত এক নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

হারুনুর রশীদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিজস্ব কোনো প্রতীক নেই। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন, তা সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তারা চাইলে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকেও সমর্থন করতে পারেন। তবে, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার অজুহাতে কাউকে হয়রানি করা বা অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যেই এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যেখানে কেবলমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা নেই, তাদের যেন কোনো অবস্থাতেই হয়রানি করা না হয়। অন্যথায়, তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি দেবেন।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা স্মরণ করিয়ে দেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘরে বসে থেকেও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখন যদি নিরপরাধ মানুষকে একই কায়দায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আটক করা হয়, তাহলে পূর্ববর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য কোথায়? হারুনুর রশীদ জোর দিয়ে বলেন, দেশের সকল আওয়ামী লীগ কর্মীই অপরাধী নন।

নির্বাচিত হলে প্রশাসনকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার আওতায় আনার অঙ্গীকার করে হারুনুর রশীদ বলেন, তার ক্ষমতার উৎস হবে সাধারণ জনগণ। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো ধরনের অন্যায়, চাঁদাবাজি বা দখলদারি চলতে দেওয়া হবে না। তার রাজনৈতিক পরিচয় বা সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হওয়ার অজুহাতে কেউ অন্যায় করলে কোনো ছাড় পাবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। মানুষকে নিরাপত্তা বা সেবা পেতে থানা কিংবা ভূমি অফিসে ঘুষের লেনদেন দেখতে চান না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তিনি যুব সমাজের সর্বাত্মক সমর্থন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সুলতানুল ইসলাম সুলতান, জেলা তাঁতি দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান, পৌর যুবদলের সদস্য আব্দুর রহিম, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী এবং সাবেক কাউন্সিলর ইফতেখার আহমেদ রঞ্জুসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।