ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় টিটিতে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য: কোর্টে মা আম্পায়ার, টেবিলে লড়ছে ছেলে

রাজধানীর পল্টনে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ উডেনফ্লোরে চলছে ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের জমজমাট আসর। যেখানে শতাধিক খেলোয়াড়ের পদচারণায় মুখর কোর্ট, সেখানেই জন্ম নিচ্ছে এক ব্যতিক্রমী গল্প। একদিকে যখন টেবিল টেনিসের টেবিলে র‌্যাকেট হাতে লড়াই করছে নওগাঁর ক্ষুদে খেলোয়াড় এজাজ হোসেন, ঠিক তখন পাশের কোর্টে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করছেন তার মা ফাতেমা তুজ জোহরা আঁখি।

ফাতেমা তুজ জোহরা আঁখি একসময় নিজেই ছিলেন জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়। ২০০৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন ছাড়লেও টেবিল টেনিসের প্রতি তার ভালোবাসা কমেনি। বর্তমানে তিনি একজন লেভেল টু টেবিল টেনিস আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ১৭ জন আম্পায়ারের মধ্যে মাত্র দুজন নারী, যার একজন আঁখি। ২০১৫ সালে লেভেল ওয়ান কোর্স সম্পন্ন করার পর দীর্ঘ ১০ বছর পর তিনি লেভেল টু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত আঁখি, পেশাগত জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও খেলাধুলার প্রতি তার এই নিবেদন সত্যিই প্রশংসনীয়।

অন্যদিকে, মা যখন আম্পায়ারিংয়ে ব্যস্ত, তখন প্রথমবারের মতো জাতীয় আসরে অংশ নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে তার ছেলে এজাজ। আজিমপুর রণিত স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির এই ছাত্র নওগাঁ জেলার প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রথম রাউন্ডেই দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে সে মাতিয়েছে কোর্ট। যদিও ছেলের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি সরাসরি দেখতে পারেননি আঁখি। তিনি তখন অন্য কোর্টে ম্যাচ পরিচালনায় ব্যস্ত ছিলেন।

ছেলের জয় প্রসঙ্গে আঁখি বলেন, “ছেলের খেলা দেখতে পারিনি, অন্য কোর্টে ম্যাচ পরিচালনা করছিলাম। কিছুটা চিন্তা তো ছিলই, ও কেমন করে। তবে জয়ের খবর শুনে অনেক ভালো লাগছে। আশা করছি, সামনে আরও ভালো করবে।”

বাংলাদেশের বাস্তবতায় টেবিল টেনিসকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। তাই খেলোয়াড়ি জীবন শেষে আঁখি বেছে নিয়েছেন কর্পোরেট ক্যারিয়ার। তবে চাকরির পাশাপাশি আম্পায়ারিংয়ের মতো কঠিন দায়িত্ব পালন করাটা তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও তিনি তা সফলভাবে সামলে নিচ্ছেন।

মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এজাজও টেবিল টেনিসকে ভালোবাসে। ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি সে নিয়মিত টেবিল টেনিসও খেলে। প্রথম দিনে জয় পেয়ে তার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। “আমার অনেক ভালো লাগছে খেলতে পেরে, ম্যাচ জিততে পেরে,” সরল ভাষায় নিজের অনুভূতি জানায় এজাজ। আঁখির স্বপ্ন, পড়াশোনার পাশাপাশি ছেলে এজাজ খেলাধুলা চালিয়ে যাবে এবং একদিন দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান রাজধানীতে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ, সীমান্তে চরম উত্তেজনা

জাতীয় টিটিতে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য: কোর্টে মা আম্পায়ার, টেবিলে লড়ছে ছেলে

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর পল্টনে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ উডেনফ্লোরে চলছে ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের জমজমাট আসর। যেখানে শতাধিক খেলোয়াড়ের পদচারণায় মুখর কোর্ট, সেখানেই জন্ম নিচ্ছে এক ব্যতিক্রমী গল্প। একদিকে যখন টেবিল টেনিসের টেবিলে র‌্যাকেট হাতে লড়াই করছে নওগাঁর ক্ষুদে খেলোয়াড় এজাজ হোসেন, ঠিক তখন পাশের কোর্টে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করছেন তার মা ফাতেমা তুজ জোহরা আঁখি।

ফাতেমা তুজ জোহরা আঁখি একসময় নিজেই ছিলেন জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়। ২০০৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন ছাড়লেও টেবিল টেনিসের প্রতি তার ভালোবাসা কমেনি। বর্তমানে তিনি একজন লেভেল টু টেবিল টেনিস আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ১৭ জন আম্পায়ারের মধ্যে মাত্র দুজন নারী, যার একজন আঁখি। ২০১৫ সালে লেভেল ওয়ান কোর্স সম্পন্ন করার পর দীর্ঘ ১০ বছর পর তিনি লেভেল টু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত আঁখি, পেশাগত জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও খেলাধুলার প্রতি তার এই নিবেদন সত্যিই প্রশংসনীয়।

অন্যদিকে, মা যখন আম্পায়ারিংয়ে ব্যস্ত, তখন প্রথমবারের মতো জাতীয় আসরে অংশ নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে তার ছেলে এজাজ। আজিমপুর রণিত স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির এই ছাত্র নওগাঁ জেলার প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রথম রাউন্ডেই দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে সে মাতিয়েছে কোর্ট। যদিও ছেলের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি সরাসরি দেখতে পারেননি আঁখি। তিনি তখন অন্য কোর্টে ম্যাচ পরিচালনায় ব্যস্ত ছিলেন।

ছেলের জয় প্রসঙ্গে আঁখি বলেন, “ছেলের খেলা দেখতে পারিনি, অন্য কোর্টে ম্যাচ পরিচালনা করছিলাম। কিছুটা চিন্তা তো ছিলই, ও কেমন করে। তবে জয়ের খবর শুনে অনেক ভালো লাগছে। আশা করছি, সামনে আরও ভালো করবে।”

বাংলাদেশের বাস্তবতায় টেবিল টেনিসকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। তাই খেলোয়াড়ি জীবন শেষে আঁখি বেছে নিয়েছেন কর্পোরেট ক্যারিয়ার। তবে চাকরির পাশাপাশি আম্পায়ারিংয়ের মতো কঠিন দায়িত্ব পালন করাটা তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও তিনি তা সফলভাবে সামলে নিচ্ছেন।

মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এজাজও টেবিল টেনিসকে ভালোবাসে। ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি সে নিয়মিত টেবিল টেনিসও খেলে। প্রথম দিনে জয় পেয়ে তার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। “আমার অনেক ভালো লাগছে খেলতে পেরে, ম্যাচ জিততে পেরে,” সরল ভাষায় নিজের অনুভূতি জানায় এজাজ। আঁখির স্বপ্ন, পড়াশোনার পাশাপাশি ছেলে এজাজ খেলাধুলা চালিয়ে যাবে এবং একদিন দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে।