ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ইয়ুননানের লিচিয়াংয়ে হারিয়ে যেতে নেই মানা

ইয়ুননানের লিচিয়াং ওল্ড টাউনে পা রাখলেই মনে হবে এখানে সময় থমকে আছে বহুকাল ধরে। সংস্কৃতি আর প্রকৃতিও মিলেমিশে একাকার। প্রথমবারের মতো এখানে পা রাখলেই যে কেউ বলবে, এবার মনে মনে নয়, সত্যি সত্যিই হারিয়ে যাওয়ার পালা এসেছে।

পাথরবিছানো সরু গলিপথে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়বে নাসি জনগোষ্ঠীর বয়োজ্যেষ্ঠদের। সচরাচর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে, শান্ত ভঙ্গিতে রাস্তায় হাঁটেন তারা। পাশ দিয়ে দেখা যাবে চিরচেনা জলচাকা। দূরে বরফে ঢাকা পাহাড় যেন নীরব প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে।

প্রকৃতি আর সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনই ‘ইয়ুননান—এ মেনিস্প্লেন্ডার্ড লাইফ’এর প্রথম দরজা।

গত বছরের মার্চে প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং তার ইয়ুননান সফরে ৮০০ বছরেরও বেশি পুরনো ইতিহাসমণ্ডিত শহরটি পরিদর্শন করেন এবং সাংস্কৃতিক পর্যটন শিল্পকে টেকসই ও সুস্থ উন্নয়নের পথ অনুসরণ করার ওপর জোর দেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার অনুরোধও করেন তিনি, যাতে লিচিয়াংয়ের পুরনো শহরটি নতুন উজ্জ্বলতায় আলোকিত হয়।

প্রাচীনকালে নাসি নৃগোষ্ঠীর লিচিয়াংয়ের শাসকদের আবাসিক এবং কর্মস্থল মুফু ম্যানশন পরিদর্শন করার সময়, চমৎকার ঐতিহ্যবাহী চীনা সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে সচেতনভাবে চীনা জাতির জন্য একটি শক্তিশালী সম্প্রদায়ের অনুভূতি গড়ে তোলার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান সি চিনপিং।

এই আহ্বানকে সামনে রেখে ইয়ুননান গড়ে তুলছে ভিন্নধর্মী পর্যটন অভিজ্ঞতা—দীর্ঘমেয়াদি বসবাসভিত্তিক ভ্রমণ, রাতের বাজার, বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটন, আর সৃজনশীল সাংস্কৃতিক পণ্য।

এর ফলও মিলছে। চলতি বছরে ইয়ুননানে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গতবছর ইয়ুননানে ৬৮ কোটি ৭০ লাখ পর্যটক এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ বেশি।

নিয়মিত ছুটি বা পর্যটনের বিপরীতে, এখানে সোজার্ন ট্যুরিজম বা দীর্ঘ সময় অবস্থান করে দৈনন্দিন জীবনের গভীরতা অন্বেষণের হারও বেড়েছে।

কুয়াংতোং প্রদেশের চুহাইয়ের ৪৭ বছর বয়সী ছাং ছেং তার স্ত্রী এবং ৭ বছর বয়সী মেয়ের সাথে, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চিয়ানশুই কাউন্টির একটি ক্যাম্পসাইটে পার্ক করা একটি ক্যারাভানে বাস করছেন।

তিনি জানালেন, ‘এভাবে জীবনযাপন আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করে। স্কুলের পরে, আমাদের মেয়ের খেলার জন্য প্রচুর সময় থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শহরের অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসার সময়, আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের খুব একটা চিনতাম না। এখানে, আমরা স্থানীয় এবং বিদেশি, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পেরে সত্যিই খুশি।’

১৩ বছর আগে চিয়ানশুইতে চলে আসা প্রবীণ মৃৎশিল্পী ছাই সিলিন বলেন, ‘চিয়ানশুই কাউন্টি একটি মনোরম জলবায়ু, গভীর সংস্কৃতি এবং ধীরগতির জীবনযাপনের অনবদ্য উৎস। এখানে প্রতিনিয়ত তাই আরও বেশি বিদেশি পর্যটক আসছেন। স্থানীয় সরকারও দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন খাতকে সুবিধাজনক নীতিমালা দিয়ে সমর্থন করছে।’

কেউ পাহাড়ে দীর্ঘদিন থাকছে, কেউ রাতের বাজারে সংস্কৃতির স্বাদ নিচ্ছে, আবার কেউ জীবনের বিশেষ মুহূর্ত বিয়েকে এখানেই রাঙিয়ে তুলছে। ইয়ুননান যেন ধীরে ধীরে শুধু ভ্রমণের নয়, বেঁচে থাকারই এক নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে।

সূত্র: সিএমজি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও আইডিয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

ইয়ুননানের লিচিয়াংয়ে হারিয়ে যেতে নেই মানা

আপডেট সময় : ১২:১০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ইয়ুননানের লিচিয়াং ওল্ড টাউনে পা রাখলেই মনে হবে এখানে সময় থমকে আছে বহুকাল ধরে। সংস্কৃতি আর প্রকৃতিও মিলেমিশে একাকার। প্রথমবারের মতো এখানে পা রাখলেই যে কেউ বলবে, এবার মনে মনে নয়, সত্যি সত্যিই হারিয়ে যাওয়ার পালা এসেছে।

পাথরবিছানো সরু গলিপথে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়বে নাসি জনগোষ্ঠীর বয়োজ্যেষ্ঠদের। সচরাচর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে, শান্ত ভঙ্গিতে রাস্তায় হাঁটেন তারা। পাশ দিয়ে দেখা যাবে চিরচেনা জলচাকা। দূরে বরফে ঢাকা পাহাড় যেন নীরব প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে।

প্রকৃতি আর সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনই ‘ইয়ুননান—এ মেনিস্প্লেন্ডার্ড লাইফ’এর প্রথম দরজা।

গত বছরের মার্চে প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং তার ইয়ুননান সফরে ৮০০ বছরেরও বেশি পুরনো ইতিহাসমণ্ডিত শহরটি পরিদর্শন করেন এবং সাংস্কৃতিক পর্যটন শিল্পকে টেকসই ও সুস্থ উন্নয়নের পথ অনুসরণ করার ওপর জোর দেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার অনুরোধও করেন তিনি, যাতে লিচিয়াংয়ের পুরনো শহরটি নতুন উজ্জ্বলতায় আলোকিত হয়।

প্রাচীনকালে নাসি নৃগোষ্ঠীর লিচিয়াংয়ের শাসকদের আবাসিক এবং কর্মস্থল মুফু ম্যানশন পরিদর্শন করার সময়, চমৎকার ঐতিহ্যবাহী চীনা সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে সচেতনভাবে চীনা জাতির জন্য একটি শক্তিশালী সম্প্রদায়ের অনুভূতি গড়ে তোলার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান সি চিনপিং।

এই আহ্বানকে সামনে রেখে ইয়ুননান গড়ে তুলছে ভিন্নধর্মী পর্যটন অভিজ্ঞতা—দীর্ঘমেয়াদি বসবাসভিত্তিক ভ্রমণ, রাতের বাজার, বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটন, আর সৃজনশীল সাংস্কৃতিক পণ্য।

এর ফলও মিলছে। চলতি বছরে ইয়ুননানে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গতবছর ইয়ুননানে ৬৮ কোটি ৭০ লাখ পর্যটক এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ বেশি।

নিয়মিত ছুটি বা পর্যটনের বিপরীতে, এখানে সোজার্ন ট্যুরিজম বা দীর্ঘ সময় অবস্থান করে দৈনন্দিন জীবনের গভীরতা অন্বেষণের হারও বেড়েছে।

কুয়াংতোং প্রদেশের চুহাইয়ের ৪৭ বছর বয়সী ছাং ছেং তার স্ত্রী এবং ৭ বছর বয়সী মেয়ের সাথে, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চিয়ানশুই কাউন্টির একটি ক্যাম্পসাইটে পার্ক করা একটি ক্যারাভানে বাস করছেন।

তিনি জানালেন, ‘এভাবে জীবনযাপন আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করে। স্কুলের পরে, আমাদের মেয়ের খেলার জন্য প্রচুর সময় থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শহরের অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসার সময়, আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের খুব একটা চিনতাম না। এখানে, আমরা স্থানীয় এবং বিদেশি, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পেরে সত্যিই খুশি।’

১৩ বছর আগে চিয়ানশুইতে চলে আসা প্রবীণ মৃৎশিল্পী ছাই সিলিন বলেন, ‘চিয়ানশুই কাউন্টি একটি মনোরম জলবায়ু, গভীর সংস্কৃতি এবং ধীরগতির জীবনযাপনের অনবদ্য উৎস। এখানে প্রতিনিয়ত তাই আরও বেশি বিদেশি পর্যটক আসছেন। স্থানীয় সরকারও দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন খাতকে সুবিধাজনক নীতিমালা দিয়ে সমর্থন করছে।’

কেউ পাহাড়ে দীর্ঘদিন থাকছে, কেউ রাতের বাজারে সংস্কৃতির স্বাদ নিচ্ছে, আবার কেউ জীবনের বিশেষ মুহূর্ত বিয়েকে এখানেই রাঙিয়ে তুলছে। ইয়ুননান যেন ধীরে ধীরে শুধু ভ্রমণের নয়, বেঁচে থাকারই এক নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে।

সূত্র: সিএমজি