ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতার দূতাবাস ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বহু আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন, “আমাদের বেসামরিক অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার পাশাপাশি, রাশিয়ার এক ড্রোন হামলায় কাতার দূতাবাসের একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” তিনি এই ধরনের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রুশ বাহিনী ২৪২টি ড্রোন, ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কিয়েভে আক্রমণ চালায়। এই ব্যাপক হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। দ্বিতীয় আরেকটি ধ্বংসাত্মক হামলায় একটি আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
জেলেনস্কি বিশেষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আশা করছেন। তিনি ইউক্রেনের জন্য বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ারও আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা যায়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সীমান্তের কাছাকাছি এই হামলা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। তিনি এটিকে ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি পরীক্ষা বলেও অভিহিত করেন এবং দ্রুত জাতিসংঘ ও ন্যাটোতে জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
এই হামলায় ১৯টি বহুতল ভবন, একটি কিন্ডারগার্টেন, ট্রাম ডিপো, সুপারমার্কেট এবং একটি গ্যাস স্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় চিকিৎসক, উদ্ধারকর্মী এবং পুলিশ সদস্যরাও আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রসিকিউটররা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে ফৌজদারি আইনে তদন্ত শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাদের দাবি, নভগরদে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির বাসভবনে কথিত হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















