রাজধানীর গ্যাস সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে তুরাগ নদের নিচে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস বিতরণ পাইপলাইনে পানি ঢুকে পড়ায়। মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে সৃষ্ট এই জটিলতায় মেরামতের পরেও পাইপের ভেতর পানি ঢুকে যাওয়ায় বুধবার থেকে তীব্র গ্যাস স্বল্পচাপ ও সরবরাহ বন্ধের সম্মুখীন হচ্ছেন ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দারা। শীতের এই সময়ে রান্নাবান্ধা ও দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমিন বাজার এলাকায় তুরাগ নদের তলদেশে অবস্থিত গ্যাস পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, মেরামতকালীন সময়ে পাইপের ভেতরে পানি প্রবেশ করে। এর ফলে ঢাকা শহরে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে এবং অধিকাংশ এলাকায় মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার থেকে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
ছুটির দিনগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় গ্যাস একেবারেই নেই, আবার কোথাও নিভু নিভু শিখায় পানি ফোটানোও সম্ভব হচ্ছে না। রামপুরার বাসিন্দা বিলকিস আক্তার জানান, “আগে দিনে অল্প অল্প গ্যাস আসতো, সন্ধ্যায় চাপ বাড়তো। গত দুই দিন ধরে দিনে বা রাতে কোনো সময়ই গ্যাস পাচ্ছি না। রাইস কুকারে ভাত আর আগের তরকারি গরম করে কোনোমতে চালিয়েছি। বাইরে থেকে খাবার কিনেও খেতে হয়েছে। এলপিজির সিলিন্ডারও এখন সহজে পাওয়া যাচ্ছে না।” উলনের কাজী মিলি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে নিভু নিভু আগুন ছিল, এখন তো একেবারেই গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করছি। একদিকে গ্যাসের বিল দিচ্ছি, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিলও বেশি আসছে।”
এই ভোগান্তি শুধু রামপুরা বা উলনের নয়। তুরাগ নদের এই পাইপলাইন লিকেজের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গাবতলী থেকে আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, বসিলা, লালমাটিয়া, ধানমন্ডিসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। মোহাম্মদপুরের শাকিলা রহমান বলেন, “বৃহস্পতিবার সকালে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এসেছিল, কিন্তু ১০ মিনিটের মধ্যেই আগুন নিভে গেল। এরপর আর আসেনি। আপাতত ইলেকট্রিক চুলাতেই রান্না চলছে।” তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইপলাইন থেকে পানি অপসারণ করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 
























