বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক পানি-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গত কয়েক দশক ধরে কাজ করছে নেদারল্যান্ডস। দেশটির চার ভাগের এক ভাগ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থিত হওয়ায় পানি সেখানে এক চিরন্তন হুমকি। উত্তর সাগরের পানির স্তর বৃদ্ধি থেকে শুরু করে নদীর উপচে পড়া পানি থেকে দেশকে রক্ষা করা এখন তাদের টিকে থাকার প্রধান শর্ত। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান হার এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক দশক ধরে দেশটিকে নিরাপদ রাখা এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বড় ধরনের আধুনিকায়ন ছাড়া টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
জাতীয় পানি-প্রতিরক্ষা কর্মসূচি ‘ডেল্টা প্রোগ্রাম’-এর কমিশনার কো ভার্ডাস বলেন, ‘আমরা একটি বাথটাবের মধ্যে বাস করছি এবং এই বাথটাবটি একসময় পূর্ণ হয়ে যাবে। শত শত বছরের প্রযুক্তিগত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর পূর্ণ আস্থা থাকায় আমরা ভুলে গিয়েছিলাম যে আমরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা যা করতে পারি, আক্ষরিক অর্থেই আমরা এখন তার শেষ সীমায় পৌঁছে যাচ্ছি।’
২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ৩৮৫টি গবেষণার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী উপকূলীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের বর্তমান উচ্চতাকে যতটা ধারণা করা হয়েছিল, প্রকৃতপক্ষে তা গড়ে প্রায় ১ ফুট বেশি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে এটি ৩ ফুট পর্যন্ত বেশি।
নেদারল্যান্ডসকে কয়েক দশক ধরে রক্ষা করে আসছে ‘ডেল্টা ওয়ার্কস’ নামের একটি বিস্তীর্ণ ঝড়-প্রতিরোধক বাঁধ ব্যবস্থা। প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই ডেল্টা ওয়ার্কস বাঁধ, ডাইক, লেভি, স্লুইস গেট এবং পাম্পসহ এক ডজনেরও বেশি প্রধান উপাদান নিয়ে গঠিত। ১৯৯৭ সালে সম্পন্ন হওয়া এই ব্যবস্থাটি সমুদ্রকে আটকে রাখার জন্য তৈরি এবং আধুনিক অবকাঠামো কীভাবে উপকূলীয় এলাকা রক্ষা করতে পারে, তার একটি বৈশ্বিক মডেল হিসেবে এটিকে দেখা হয়।
১৯৫৩ সালের বিধ্বংসী উত্তর সাগর বন্যার পর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল, যে বন্যায় নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং যুক্তরাজ্যের উপকূলে ২ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। মধ্যযুগের পর নেদারল্যান্ডসে এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ, যা পরবর্তীতে ভবিষ্যৎ বন্যা প্রতিরোধের জন্য এই ব্যাপক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাধ্য করে।
গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশনের পানি ও নগর সহনশীলতা বিষয়ক প্রধান বিশেষজ্ঞ জোপ ভেরহেগেন বলেন, ‘আগে আমাদের পানি নিয়ন্ত্রণ করার…
রিপোর্টারের নাম 



















