এলপিজি গ্যাসের কমিশন বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) একতরফা মূল্য নির্ধারণ বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই সময়ের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামী বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম দেয় এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম বা এলপি গ্যাসের বর্তমান সংকট এবং অব্যবস্থাপনা নিরসনের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বিইআরসি পরিবেশকদের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই নতুন দাম নির্ধারণ করছে, যা কোম্পানি, পরিবেশক ও সাধারণ ভোক্তা—সবার জন্যই বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অনভিজ্ঞ অভিযানের ফলে বাজারে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী এখন ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও মাত্র সোয়া ১ কোটি সিলিন্ডার রিফিল হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ৬০ শতাংশ ঘাটতি থাকায় ব্যবসায়িক খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিইআরসি মাসে একবার দাম ঘোষণা করলেও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো একাধিকবার মূল্য সমন্বয় করে, যার পুরো দায়ভার বহন করতে হয় পরিবেশকদের।
এই সংকট নিরসনে একটি স্থায়ী কমিটি গঠন, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নিষ্ক্রিয় সিলিন্ডারে ভর্তুকি ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। বেঁধে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের মাধ্যমে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
রিপোর্টারের নাম 

























