দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে মন্দাভাব কাটছে না। বিশ্ববাজারে টানা পাঁচ মাস ধরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমায় দেশের সার্বিক রপ্তানি আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে পোশাক খাতে রপ্তানি হ্রাসের হার সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগস্ট মাসে এই খাতে রপ্তানি ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমলেও ডিসেম্বরে তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়ে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে ওভেন পোশাকের রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং নিট পোশাকের রপ্তানি কমেছে ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের ডিসেম্বরের তুলনায় ওভেন পোশাকের আয় ১৮৭ কোটি ডলার থেকে কমে ১৬০ কোটি ডলারে এবং নিট পোশাক ১৮৯ কোটি ডলার থেকে ১৬৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে তৈরি পোশাক খাতে মোট রপ্তানি হয়েছে ১৯ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম।
ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন শুল্ক কাঠামোর প্রভাবে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বর্তমানে নতুন কোনো কার্যাদেশ (অর্ডার) দিচ্ছে না। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজের আদেশ না পাওয়াই রপ্তানি হ্রাসের প্রধান কারণ। এই ধীরগতি আগামী কয়েক মাস অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ক্রেতারা নতুন শুল্ক কাঠামোর সাথে মানিয়ে নিতে পারলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এদিকে ভারত ও চীনের প্রস্তুতকারকরাও বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে সচেষ্ট হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























