উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে এসব উদ্বেগজনক পরিস্থিতি উঠে আসে। সংলাপে পেশ করা একটি জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, নভেম্বর মাসে পরিচালিত ওই জরিপ অনুযায়ী, এখনো ৩৩ শতাংশ ভোটার তাদের রাজনৈতিক সমর্থন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের আস্থা অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা উপস্থাপন করা জরুরি। জরিপে আরও প্রকাশ পায় যে, দেশের ৫৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে এবং এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে চিহ্নিত করেছেন।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় পরিবারগুলো তাদের প্রকৃত আয় ক্রমাগত হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির ওপর পড়ছে, যা সামগ্রিক সামাজিক কল্যাণকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিএনপির মিডিয়া সেলের একজন সদস্য বলেন, নির্বাচিত হলে বিএনপি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত দুই ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে কেবল আমদানি বাড়িয়েও ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়া সম্ভব নয়।
এ সময় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি বলেন, দ্রব্যমূল্য ও অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা বাড়াতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের মাধ্যমে টেকনোক্র্যাটদের নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হলে নীতিনির্ধারণ আরও কার্যকর হবে।
এই সংলাপে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি, বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব, গণসংহতি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























