অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাবাতিয়া শহরে ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে। সেই সাথে বাড়ি দখল, গণগ্রেফতার এবং পূর্ণ কারফিউ জারি করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানের দ্বিতীয় দিনে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) শহরের প্রবেশপথগুলো সিলগালা করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী কাবাতিয়ায় ঢুকে বহু বাসিন্দাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, একাধিক আবাসিক বাড়িকে সাময়িকভাবে সামরিক জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে সেখানকার পরিবারগুলোকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
ইসরায়েলের আর্মি রেডিও জানিয়েছে, শহরটিতে পূর্ণ কারফিউ কার্যকর রয়েছে।
এই অভিযান শুরু হয় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজের দেওয়া নির্দেশের পর। তিনি দাবি করেন, উত্তর ইসরায়েলে সংঘটিত ছুরিকাঘাত ও গাড়ি চাপা দেওয়ার হামলার সঙ্গে জড়িত এক ফিলিস্তিনির বাড়ি কাবাতিয়ায়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একাধিক ডিভিশনের সেনা, সীমান্ত পুলিশ এবং শিন বেতের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযানে অংশ নিয়েছে। সন্দেহভাজনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং সেটি ভাঙার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের অভিযুক্ত আত্মীয়দের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নীতিকে অবৈধ সমষ্টিগত শাস্তি হিসেবে নিন্দা করে আসছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা কাবাতিয়ার আরও এলাকায় তল্লাশি চালাবে, চিহ্নিত ব্যক্তিদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করবে। এক বাসিন্দা আল জাজিরাকে বলেন, শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হুমকি ও উসকানি চলছে।
ওয়াফা জানায়, একই দিনে রামাল্লাহ ও হেবরনের আশপাশের কয়েকটি গ্রামেও ইসরায়েলি অভিযান চালানো হয়। হেবরনের কাছের দুরা, আবদা ও ইমরেইশ এলাকা থেকে অন্তত আটজনকে আটক করা হয়েছে।
গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও হামলা প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে প্রায় ২১ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত ইসরায়েলের কারাগারে প্রায় ৯,৩০০ ফিলিস্তিনি বন্দি ছিলেন, যাদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি কোনও অভিযোগ ছাড়াই আটক। বন্দিদের ওপর নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন এবং হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগও উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























