রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমদানি পণ্য মজুত রাখার কার্গো ভিলেজে গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তার মাত্র দুদিন আগেই চট্টগ্রামে একটি পোশাক কারখানাও আগুনে পুড়ে যায়। দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে বিশেষজ্ঞরা কেবলই কাকতালীয় বলে মনে করছেন না। বরং, এতে তাঁরা নাশকতার আভাস পাচ্ছেন।
ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহম্মেদ খান জাগো নিউজকে বলেন, শাহজালালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাস্থলে (কেপিআই) যেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকা উচিত, সেখানে এত দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভাতে না পারাটা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির দিকেই ইঙ্গিত করে। বিমানবন্দরের নিজস্ব শক্তিশালী অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট থাকা সত্ত্বেও আগুন নিয়ন্ত্রণে এতটা সময় লাগা অস্বাভাবিক।
অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নড়বড়ে করার ইঙ্গিত?
আলী আহম্মেদ খান দ্রুত ও স্পষ্ট তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এমন আগুন দেশের অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য বড় আঘাত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এসব ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করার পাঁয়তারা হতে পারে।
আরেক সাবেক ডিজি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শহিদউল্লাহও মনে করেন, ঘন ঘন আগুন লাগার ঘটনায় নাশকতার আলামত থাকতে পারে। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে সব ধরনের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া অপ্রত্যাশিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব দুর্ঘটনার আড়ালে দেশের অর্থনীতি দুর্বল করার কোনো চেষ্টা চলছে কি না।
ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও সমন্বয়হীনতা
আবু নাঈম মনে করছেন, আগুন লাগার পর প্রাথমিক সাড়া, ফায়ার অ্যালার্ম এবং পানি সরবরাহের ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল জায়গায় প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি থাকা উচিত নয়। ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যৌথ মহড়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। অনুশীলন না থাকলে বিপদের সময় সমন্বয় ভেঙে পড়তে পারে।
নিরপেক্ষ তদন্তের জরুরি দাবি
দেশের এত গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থাপনায় পরপর আগুন লাগার কারণে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত। সাবেক এই দুই কর্মকর্তা মনে করেন, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, বা এটি নিছক দুর্ঘটনা কি না, তা দ্রুত জানতে না পারলে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হবে না।
ঘটনাক্রম সংক্ষেপে:
শাহজালাল অগ্নিকাণ্ড: শনিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে শাহজালালের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশন থেকে মোট ৩৭টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করে। এছাড়াও, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী এবং প্রায় এক হাজার আনসার সদস্য উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন।
সিইপিজেড অগ্নিকাণ্ড: এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রামের সিইপিজেডের দুটি কোম্পানির গুদামে (অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানি) ভয়াবহ আগুন লাগে। সাড়ে ১৭ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সিইপিজেডের যে সাততলা ভবনটিতে আগুন লেগেছিল, সেটির অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না এবং ভবনটির আশেপাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রাখায় আগুন নেভাতে সমস্যা হয়।
রিপোর্টারের নাম 




















