ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরের আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রধান বাধা ছিল তীব্র বাতাস: ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হয়েছে তীব্র বাতাসের কারণে। এমনটাই জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আগুন নেভাতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন।

ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, “আগুন নেভাতে আমাদের প্রধান সমস্যা ছিল বাতাস। যেহেতু এটি খোলা জায়গা, তাই প্রচুর বাতাস থাকায় অক্সিজেনের সরবরাহ সবসময়ই ছিল, যা আগুনকে আরও দ্রুত ছড়াতে সাহায্য করে। এই কারণেই ধোঁয়া অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল।”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামাল আরও জানান, দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে খবর পেয়ে তাদের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তখন থেকেই আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। ফায়ার ফাইটিংয়ের সময় এভিয়েশনের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক যানগুলোও কাজ করছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মোট ৩৭টি ইউনিট কাজ করেছে।

তিনি নিশ্চিত করেন, রাত ৯টা ১৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি বলেন, “আগুন আর বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। আমরা এখন শুধু সম্পূর্ণ নির্বাপণের (ড্যাম্পিং) কাজ করে যাচ্ছি।”

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ডিজি জানান, আগুনের ঘটনাটি ঘটেছে আমদানি করা মালামাল রাখার স্থানে—আনুমানিক ৪০০ গজের মতো জায়গায়, যেখানে খোলা এবং বদ্ধ উভয় স্থানেই পণ্য রাখা ছিল। তিনি বলেন, একদিকে যেমন আগুন নেভানোর কাজ চলেছে, তেমনি অন্যদিকে কিছু জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এই মুহূর্তে নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এখন আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।”

এছাড়াও, তিনি জানান, তাদের দুইজন ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছেন এবং প্রাথমিকভাবে আনসারের কিছু সদস্যও আহত হয়ে থাকতে পারেন, তবে তাদের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

শাহজালাল বিমানবন্দরের আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রধান বাধা ছিল তীব্র বাতাস: ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক

আপডেট সময় : ০৯:২৪:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হয়েছে তীব্র বাতাসের কারণে। এমনটাই জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আগুন নেভাতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন।

ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, “আগুন নেভাতে আমাদের প্রধান সমস্যা ছিল বাতাস। যেহেতু এটি খোলা জায়গা, তাই প্রচুর বাতাস থাকায় অক্সিজেনের সরবরাহ সবসময়ই ছিল, যা আগুনকে আরও দ্রুত ছড়াতে সাহায্য করে। এই কারণেই ধোঁয়া অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল।”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামাল আরও জানান, দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে খবর পেয়ে তাদের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তখন থেকেই আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। ফায়ার ফাইটিংয়ের সময় এভিয়েশনের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক যানগুলোও কাজ করছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মোট ৩৭টি ইউনিট কাজ করেছে।

তিনি নিশ্চিত করেন, রাত ৯টা ১৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি বলেন, “আগুন আর বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। আমরা এখন শুধু সম্পূর্ণ নির্বাপণের (ড্যাম্পিং) কাজ করে যাচ্ছি।”

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ডিজি জানান, আগুনের ঘটনাটি ঘটেছে আমদানি করা মালামাল রাখার স্থানে—আনুমানিক ৪০০ গজের মতো জায়গায়, যেখানে খোলা এবং বদ্ধ উভয় স্থানেই পণ্য রাখা ছিল। তিনি বলেন, একদিকে যেমন আগুন নেভানোর কাজ চলেছে, তেমনি অন্যদিকে কিছু জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এই মুহূর্তে নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এখন আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।”

এছাড়াও, তিনি জানান, তাদের দুইজন ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছেন এবং প্রাথমিকভাবে আনসারের কিছু সদস্যও আহত হয়ে থাকতে পারেন, তবে তাদের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।