ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সীমান্ত সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করেছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান হলো।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি জানান, দুপুর ১২টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এরপর থেকে কোনও গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়নি।

কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর কোনও সংঘর্ষের তথ্য দেয়নি। তবে মন্ত্রণালয়টি জানায়, শনিবার ভোরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগে একটি থাই বিমান হামলা করেছিল।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্কফানিত ও কম্বোডীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী তিয়া সেইহা স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে ২০ দিনের সংঘর্ষের অবসান ঘটে। এ সংঘাতে অন্তত ১০১ জন নিহত এবং উভয় পক্ষ মিলিয়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। সংঘর্ষে যুদ্ধবিমান, রকেট হামলা ও ভারী গোলাবর্ষণ হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় হওয়া আগের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।

যুদ্ধবিরতি বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষই বর্তমান সেনা মোতায়েন বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে, কোনও ধরনের অগ্রসর হওয়া ছাড়াই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেকোনও ধরনের অতিরিক্ত সেনা জড়ো করলে উত্তেজনা বাড়বে এবং পরিস্থিতি সমাধানের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

কম্বোডিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিবৃতি প্রকাশ করে।

কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখন ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সিহাসাক ফুয়াংকেটকে আগামী রবিবার ও সোমবার চীনের ইউনান প্রদেশে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এক থাই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া তাদের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্তের বিভিন্ন অনির্ধারিত অংশে সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আছে। এই বিরোধ মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

নাথাফন জানান, নতুন যুদ্ধবিরতি আসিয়ান জোটের পর্যবেক্ষক দল এবং দুই দেশের সরাসরি সমন্বয়ের মাধ্যমে নজরদারিতে থাকবে।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে নীতিগত পর্যায়ে দুই পক্ষের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বজায় থাকবে।

সোমবার কুয়ালালামপুরে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক এবং এরপর সীমান্ত চেকপোস্টে টানা তিন দিনের আলোচনার পর নতুন যুদ্ধবিরতি হয়। শনিবার সেখানে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা বৈঠক করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকার বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিজ নিজ এলাকায় ফেরার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে এবং বেসামরিকদের বিরুদ্ধে কোনও শক্তি প্রয়োগ না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এছাড়া যুদ্ধবিরতি ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি কার্যকর থাকলে, জুলাইয়ের সংঘর্ষের পর থেকে থাইল্যান্ডের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডীয় সেনাকে ফেরত দেওয়া হবে।

তবে শনিবারের এই চুক্তি সীমান্ত নির্ধারণসংক্রান্ত চলমান কার্যক্রমে কোনও প্রভাব ফেলবে না। বিতর্কিত সীমান্ত এলাকার সমাধান আগের মতোই বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমেই করা হবে।

থাইল্যান্ডের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল প্রাপাস সর্নজাইদি সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধ ও সংঘর্ষ কোনও দেশের জন্য সুখ বয়ে আনে না। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, থাই জনগণ ও কম্বোডীয় জনগণ একে অপরের সঙ্গে বিরোধে নেই।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের বিনামূল্যে ইনসুলিন দেওয়ার দাবি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর

আপডেট সময় : ০২:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সীমান্ত সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করেছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান হলো।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি জানান, দুপুর ১২টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এরপর থেকে কোনও গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়নি।

কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর কোনও সংঘর্ষের তথ্য দেয়নি। তবে মন্ত্রণালয়টি জানায়, শনিবার ভোরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগে একটি থাই বিমান হামলা করেছিল।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্কফানিত ও কম্বোডীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী তিয়া সেইহা স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে ২০ দিনের সংঘর্ষের অবসান ঘটে। এ সংঘাতে অন্তত ১০১ জন নিহত এবং উভয় পক্ষ মিলিয়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। সংঘর্ষে যুদ্ধবিমান, রকেট হামলা ও ভারী গোলাবর্ষণ হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় হওয়া আগের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।

যুদ্ধবিরতি বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষই বর্তমান সেনা মোতায়েন বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে, কোনও ধরনের অগ্রসর হওয়া ছাড়াই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেকোনও ধরনের অতিরিক্ত সেনা জড়ো করলে উত্তেজনা বাড়বে এবং পরিস্থিতি সমাধানের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

কম্বোডিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিবৃতি প্রকাশ করে।

কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখন ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সিহাসাক ফুয়াংকেটকে আগামী রবিবার ও সোমবার চীনের ইউনান প্রদেশে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এক থাই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া তাদের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্তের বিভিন্ন অনির্ধারিত অংশে সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আছে। এই বিরোধ মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

নাথাফন জানান, নতুন যুদ্ধবিরতি আসিয়ান জোটের পর্যবেক্ষক দল এবং দুই দেশের সরাসরি সমন্বয়ের মাধ্যমে নজরদারিতে থাকবে।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে নীতিগত পর্যায়ে দুই পক্ষের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বজায় থাকবে।

সোমবার কুয়ালালামপুরে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক এবং এরপর সীমান্ত চেকপোস্টে টানা তিন দিনের আলোচনার পর নতুন যুদ্ধবিরতি হয়। শনিবার সেখানে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা বৈঠক করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকার বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিজ নিজ এলাকায় ফেরার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে এবং বেসামরিকদের বিরুদ্ধে কোনও শক্তি প্রয়োগ না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এছাড়া যুদ্ধবিরতি ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি কার্যকর থাকলে, জুলাইয়ের সংঘর্ষের পর থেকে থাইল্যান্ডের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডীয় সেনাকে ফেরত দেওয়া হবে।

তবে শনিবারের এই চুক্তি সীমান্ত নির্ধারণসংক্রান্ত চলমান কার্যক্রমে কোনও প্রভাব ফেলবে না। বিতর্কিত সীমান্ত এলাকার সমাধান আগের মতোই বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমেই করা হবে।

থাইল্যান্ডের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল প্রাপাস সর্নজাইদি সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধ ও সংঘর্ষ কোনও দেশের জন্য সুখ বয়ে আনে না। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, থাই জনগণ ও কম্বোডীয় জনগণ একে অপরের সঙ্গে বিরোধে নেই।

সূত্র: রয়টার্স