বাংলাদেশে কথিত রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভারতবিরোধী প্রচারণার অজুহাতে শিলিগুড়ির ১৮০টি হোটেলে বাংলাদেশিদের কক্ষ ভাড়া না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘বৃহত্তর শিলিগুড়ি হোটেল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি’। সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ জানান, এর আগে শিক্ষার্থী ও রোগীদের জন্য নিয়ম শিথিল থাকলেও এখন থেকে কোনো বাংলাদেশির জন্যই এই সুযোগ থাকবে না। যদিও শিলিগুড়ির পর্যটন খাত অনেকাংশেই বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল, তবুও জাতীয় স্বার্থের দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা এই আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৫ সালে দিল্লি পুলিশ রেকর্ড ২ হাজার ২০০ জন মানুষকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে সীমান্ত পার করে দিয়েছে। এই সংখ্যাটি গত কয়েক বছরের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি, যেখানে ২০২৪ সালে মাত্র ১৪ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। বিশ্লেষকরা একে ‘নজিরবিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছেন, কারণ পুশব্যাক করা ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিকত্বের স্বপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেনি দিল্লি পুলিশ।
অভিযোগ উঠেছে যে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বৈধ নথিপত্র থাকা বাংলাভাষী মুসলিমদেরও জোরপূর্বক বাংলাদেশি সাজিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন ও তাঁর পরিবারকে দিল্লি পুলিশ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিলেও চার মাস পর আদালতের নির্দেশে প্রমাণিত হয় যে তাঁরা জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। একইভাবে আসামের সকিনা বিবির ক্ষেত্রেও কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই পুশব্যাক করার ঘটনা ঘটেছে, যা ভারতের এই কঠোর অভিবাসন নীতির স্বচ্ছতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















