ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক আলাপের দাবি ইউক্রেনের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে বিশেষ মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনা ইতিবাচক হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপে পরবর্তী বৈঠকের ধরন, ফরম্যাট এবং সময়সূচি এই সব বিষয়ে নতুন ধারণা পাওয়া গেছে, যা শান্তির সম্ভাবনাকে আরও সন্নিকটে আনতে পারে।

উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের দেওয়া আইডিয়ার প্রশংসা করে জেলেনস্কি বলেন, এটি ইউক্রেনীয় কূটনীতির জন্য একটি কর্মব্যস্ত দিন ছিল এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সম্মত একটি হালনাগাদ করা ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশের একদিন পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়ার প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে প্রস্তাবগুলো এনেছেন, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপ্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে আমরা আমেরিকানদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাব।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিরা ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে।

অবশ্য এখনও কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজ বাকি আছে বলে স্বীকার করেছেন জেলেনস্কি। তবে মার্কিনিদের সঙ্গে আলাপের কারণে, কীভাবে সবকিছু বাস্তবায়ন করা যায় তা অনুধাবন করতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ইউক্রেনের প্রধান আলোচক ও শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রুস্তেম উমেরভ যুক্তরাষ্ট্রের দলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্মত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনাটি কয়েক সপ্তাহ আগে উইটকফের তৈরি প্রাথমিক খসড়ার হালনাগাদ সংস্করণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বুধবার হালনাগাদ প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে জেলেনস্কি বলেন, এতে রাশিয়াকে পূর্ব ইউক্রেন থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা এবং তার বদলে একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন পরিকল্পনায় রাশিয়া ভবিষ্যতে আবার আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে সমন্বিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউক্রেনের শিল্পসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেস্ক অঞ্চল নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের বিষয়টি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেসব এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার করা হবে, সেগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব ইউক্রেনের হাতেই থাকতে হবে।

বর্তমানে রাশিয়া ডোনেস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং পার্শ্ববর্তী লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এই দুই অঞ্চল সম্মিলিতভাবে ডনবাস নামে পরিচিত।

ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে চলমান শান্তি আলোচনায় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জেলেনস্কির ওপর ডনবাস পুরোপুরি রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রবল চাপ রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এখনও অবশ্য ভূখণ্ড ছাড়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং যেকোনও সমঝোতার ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনীয় সেনারা স্বেচ্ছায় ডনবাস না ছাড়লে অঞ্চলটি বলপ্রয়োগে দখল করা হবে।

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণভোটের রায় ও অধ্যাদেশ পুনর্বহালের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক আলাপের দাবি ইউক্রেনের

আপডেট সময় : ০১:৪৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে বিশেষ মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনা ইতিবাচক হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপে পরবর্তী বৈঠকের ধরন, ফরম্যাট এবং সময়সূচি এই সব বিষয়ে নতুন ধারণা পাওয়া গেছে, যা শান্তির সম্ভাবনাকে আরও সন্নিকটে আনতে পারে।

উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের দেওয়া আইডিয়ার প্রশংসা করে জেলেনস্কি বলেন, এটি ইউক্রেনীয় কূটনীতির জন্য একটি কর্মব্যস্ত দিন ছিল এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সম্মত একটি হালনাগাদ করা ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশের একদিন পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়ার প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে প্রস্তাবগুলো এনেছেন, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপ্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে আমরা আমেরিকানদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাব।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিরা ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে।

অবশ্য এখনও কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজ বাকি আছে বলে স্বীকার করেছেন জেলেনস্কি। তবে মার্কিনিদের সঙ্গে আলাপের কারণে, কীভাবে সবকিছু বাস্তবায়ন করা যায় তা অনুধাবন করতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ইউক্রেনের প্রধান আলোচক ও শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রুস্তেম উমেরভ যুক্তরাষ্ট্রের দলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্মত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনাটি কয়েক সপ্তাহ আগে উইটকফের তৈরি প্রাথমিক খসড়ার হালনাগাদ সংস্করণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বুধবার হালনাগাদ প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে জেলেনস্কি বলেন, এতে রাশিয়াকে পূর্ব ইউক্রেন থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা এবং তার বদলে একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন পরিকল্পনায় রাশিয়া ভবিষ্যতে আবার আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে সমন্বিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউক্রেনের শিল্পসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেস্ক অঞ্চল নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের বিষয়টি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেসব এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার করা হবে, সেগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব ইউক্রেনের হাতেই থাকতে হবে।

বর্তমানে রাশিয়া ডোনেস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং পার্শ্ববর্তী লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এই দুই অঞ্চল সম্মিলিতভাবে ডনবাস নামে পরিচিত।

ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে চলমান শান্তি আলোচনায় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জেলেনস্কির ওপর ডনবাস পুরোপুরি রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রবল চাপ রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এখনও অবশ্য ভূখণ্ড ছাড়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং যেকোনও সমঝোতার ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনীয় সেনারা স্বেচ্ছায় ডনবাস না ছাড়লে অঞ্চলটি বলপ্রয়োগে দখল করা হবে।

সূত্র: বিবিসি