ভারত ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি বাধাগ্রস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা নীতিকে বিকৃত করছে বলে অভিযোগ করেছে চীন। গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই অভিযোগ তুলে বলেন, চীন ভারতকে একটি কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী মিত্র হিসেবে দেখে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, দুই দেশের সীমান্ত সমস্যা একান্তই বেইজিং ও দিল্লির নিজস্ব বিষয় এবং এতে কোনো তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ বা বিচার তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
সম্প্রতি পেন্টাগনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন সম্ভবত ভারতের সঙ্গে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা হ্রাসের সুযোগ নিয়ে ওয়াশিংটন-দিল্লি সম্পর্কের গভীরতা কমাতে চাইছে। পেন্টাগনের এই মূল্যায়নকে ‘অদায়িত্বশীল’ আখ্যা দিয়ে লিন জিয়ান বলেন, মার্কিন প্রতিবেদনটি মূলত দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা এবং এটি তাদের নিজস্ব সামরিক আধিপত্য বজায় রাখার একটি অজুহাত মাত্র। তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে চীন ও ভারতের সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমগুলোও সক্রিয় আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সীমান্তে টহলদারি নিয়ে সমঝোতা এবং পরবর্তীতে ব্রিকস সম্মেলনে মোদি-শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর থেকেই দুই দেশের বরফ গলতে শুরু করে। তবে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অরুণাচল প্রদেশকে চীনের ‘কোর ইন্টারেস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করায় পরিস্থিতির নতুন মোড় নিয়েছে। চীন পেন্টাগনের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাস বৃদ্ধি ও সহযোগিতা জোরদার করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বেইজিং তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বকীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























