ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

আনিসুলের বাড়িতে আগুন: জাপা বলছে, ‘নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় পার্টি। দলটির দাবি, জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই পরিকল্পিতভাবে এই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানে হাওলাদার টাওয়ারে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টির জরুরি প্রেসিডিয়াম বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রেসিডিয়াম সভার প্রস্তাবে বলা হয়, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের সাদেকনগর গ্রামে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বাসভবনে শতাধিক দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাট করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

জাপা নেতারা বলেন, জাতীয় পার্টি যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই সময় এই হামলা প্রমাণ করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশকে অন্ধকার যুগের দিকে ঠেলে দিতে চায়।

সভায় আরও বলা হয়, জুলাই-আগস্টের ঘটনায় জাপার বিভিন্ন নেতার নামে দায়ের করা মিথ্যা হত্যা মামলা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে প্রেসিডিয়াম সভা। একইসঙ্গে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নামে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠন করা হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

হামলার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি জাপা প্রেসিডিয়াম সভা দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সহিংসতার নিন্দা জানায়। বিশেষ করে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, সাংবাদিক নূরুল কবীরের ওপর হেনস্তা, খুলনায় সাংবাদিক হত্যা, ধানমন্ডি ৩২ ও উদীচী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে হত্যার পর লাশে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ও খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার অপচেষ্টা এবং লক্ষ্মীপুরে শিশু হত্যার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করে দলটি।

সভার শুরুতে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন– দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ; প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, নাসরিন জাহান রত্না, সোলায়মান আলম শেঠ, মাশরুর মাওলা, নাজমা আক্তার, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, আরিফুর রহমান খান, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন, সরদার শাজাহান, ফখরুল আহসান শাহজাদা, বেলাল হোসেন, নুরুল ইসলাম ওমর, আমানত হোসেন আমানত, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, শাহ জামাল রানা ও শেখ মতলুব হোসেন লিয়ান। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের বিনামূল্যে ইনসুলিন দেওয়ার দাবি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের

আনিসুলের বাড়িতে আগুন: জাপা বলছে, ‘নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র’

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় পার্টি। দলটির দাবি, জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই পরিকল্পিতভাবে এই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানে হাওলাদার টাওয়ারে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টির জরুরি প্রেসিডিয়াম বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রেসিডিয়াম সভার প্রস্তাবে বলা হয়, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের সাদেকনগর গ্রামে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বাসভবনে শতাধিক দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাট করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

জাপা নেতারা বলেন, জাতীয় পার্টি যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই সময় এই হামলা প্রমাণ করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশকে অন্ধকার যুগের দিকে ঠেলে দিতে চায়।

সভায় আরও বলা হয়, জুলাই-আগস্টের ঘটনায় জাপার বিভিন্ন নেতার নামে দায়ের করা মিথ্যা হত্যা মামলা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে প্রেসিডিয়াম সভা। একইসঙ্গে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নামে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠন করা হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

হামলার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি জাপা প্রেসিডিয়াম সভা দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সহিংসতার নিন্দা জানায়। বিশেষ করে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, সাংবাদিক নূরুল কবীরের ওপর হেনস্তা, খুলনায় সাংবাদিক হত্যা, ধানমন্ডি ৩২ ও উদীচী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে হত্যার পর লাশে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ও খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার অপচেষ্টা এবং লক্ষ্মীপুরে শিশু হত্যার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করে দলটি।

সভার শুরুতে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন– দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ; প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, নাসরিন জাহান রত্না, সোলায়মান আলম শেঠ, মাশরুর মাওলা, নাজমা আক্তার, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, আরিফুর রহমান খান, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন, সরদার শাজাহান, ফখরুল আহসান শাহজাদা, বেলাল হোসেন, নুরুল ইসলাম ওমর, আমানত হোসেন আমানত, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, শাহ জামাল রানা ও শেখ মতলুব হোসেন লিয়ান।