২০২৫ সালে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সূত্রমতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭৫.৭ মিলিয়ন। তবে ২০৫০ সালের জনসংখ্যা কত হবে, তা নির্ধারণ করা বেশ কঠিন, কারণ এটি নির্ভর করে জন্মহার, মৃত্যুহার, অভিবাসন, জনসংখ্যা গতি এবং সামাজিক পরিবর্তনগুলোর ওপর। একটি জনপ্রিয় পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২১৪.৭ মিলিয়ন হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক্সও প্রায় ২১৪ মিলিয়ন জনসংখ্যা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে ইউএনএফপিএ বলেছে, যদি বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকে, তাহলে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০৫৩ সালে শীর্ষে পৌঁছাতে পারে। জনসংখ্যার বৃদ্ধির ধীরগতি এবং সমীকরণগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় অনেক বিশ্লেষক মনে করেন যে, ২০৫০ সালের জনসংখ্যা একাধিক ‘উচ্চ-স্বল্পতার’ মডেলের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
জন্মহার: গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে জন্মহার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। যদি জন্মহার দ্রুত কমে আসে (অর্থাৎ পুরুষ-নারী গড়ে দুই বা এর কম সন্তান), তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীর হতে পারে। তবে উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ ব্যাহত হলে জন্মহার আবার বাড়তে পারে।
মৃত্যুহার ও স্বাস্থ্যসেবা: স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি, শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। তবে রোগ-প্রতিরোধ, খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যসচেতনতার মতো পরিবর্তনগুলো জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে সীমাবদ্ধও করতে পারে।
অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর (গ্রাম থেকে শহরে) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন—সব মিলিয়ে জনসংখ্যার বণ্টনে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বিদেশে অভিবাসনের হার বেশি হলে তা জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জনসংখ্যার গতি: যদি একটি দেশে সন্তান উৎপাদনের বয়সে উপনীত বড় একটি যুব-সমষ্টি থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে একটি ‘মোমেন্টাম’ কাজ করে। অর্থাৎ, জন্মহার কমে এলেও এই যুবগোষ্ঠী জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।
শিক্ষা, বিশেষ করে নারী শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা: শিক্ষার প্রসারণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে পরিবার-পরিকল্পনার ব্যবহার বাড়বে, ফলে জন্মহার আরও নিয়ন্ত্রিত হবে। অর্থনৈতিক উত্তরণের সঙ্গে সাধারণত পরিবার ছোট রাখার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়।
বন্যা, কৃষিজমির রূপান্তর, মেঘলা আবহাওয়া, উপকূলীয় ক্ষয়, জমি অভিগম্যতা হ্রাস ইত্যাদির কারণে কিছু অঞ্চলের জনসংখ্যা বাসযোগ্য পরিবেশ কম পাবে। এর ফলে অভিবাসন বা পুনর্বাসন ঘটতে পারে, যা জনসংখ্যার ঘনত্ব ও কাঠামোকে প্রভাবিত করবে।
আশা করা হচ্ছে, গ্রামের মানুষের শহরে আগমন বাড়বে। শহুরে সুযোগ-সুবিধা, যাতায়াত এবং কাজের সুযোগ বেশি থাকায় মানুষ শহরে যেতে আগ্রহী হবে। তবে শহুরে অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা জনসংখ্যার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
নীতি ও পরিকল্পনা প্রভাব: সরকার ও নীতিনির্ধারকরা জনসংখ্যা চাহিদা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগর পরিকল্পনায় সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করলে জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রিত রাখার সুযোগ থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এবং গৃহীত জনসংখ্যা নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে:
জমি ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত জনসংখ্যা মেটাতে অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়বে (বাসস্থান, পানি, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ)। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির চাহিদা এবং একই সঙ্গে কৃষিজমি হ্রাস একটি বড় সমস্যা। পরিবেশগত পরিবর্তন, যেমন বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা বড় হুমকি। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার চাহিদা (হাসপাতাল, বিদ্যালয়, পরিবহন) এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চাপ বাড়বে। বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বাড়বে। নগর ব্যবস্থাপনায় যানজট, আবাসন সংকট এবং বস্তিবাসী সম্প্রসারণও উদ্বেগের কারণ।
কৃষিজমি হ্রাস একটি গুরুতর সমস্যা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক প্রকল্প অনুসারে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কৃষিজমি প্রায় ১.৯৮ শতাংশ কমেছে। এর মানে, কৃষিজমির আয়তন প্রায় ৭৪,৩৮৮ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে ৭২,৯১৬ বর্গকিলোমিটারে এসেছে। প্রতি বছর প্রায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ হেক্টর চাষযোগ্য জমি নন-কৃষি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০০৮-২০১৯ সালের কৃষি তালিকানুসারে প্রায় ৪ লাখ একর কৃষিজমি এই দশকে নন-চাষযোগ্য বা অন্য কাজে রূপান্তরিত হয়েছে। কৃষিজমি হ্রাসের প্রধান কারণ হলো নগরায়ন, শিল্পায়ন, ভবন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং অনিয়ন্ত্রিত জমির ব্যবহার।
যদি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী (১৫-৬৪ বছর) সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে অর্থনীতি ও উন্নয়ন দ্রুত এগোতে পারে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ, বিশেষ করে উৎপাদন, সেবা ও প্রযুক্তি খাতে বৃহৎ বাজার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে এবং দেশজ উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। উন্নত মানবসম্পদে বিনিয়োগ, অর্থাৎ শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাপক সুফল পাওয়া যাবে।
খাদ্য নিরাপত্তা বলতে বোঝায়, প্রত্যেক মানুষের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাদ্যে সব সময় শারীরিক ও অর্থনৈতিক প্রবেশাধিকার থাকা। যা একজন সক্রিয় ও সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন। এর মূল উপাদান চারটি: উপলব্ধতা (পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ), প্রবেশযোগ্যতা (মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বা খাদ্য পেতে সক্ষমতা), ব্যবহার (খাদ্য গ্রহণ, সংরক্ষণ ও পুষ্টি ব্যবহারের সক্ষমতা), এবং স্থিতিশীলতা (দীর্ঘমেয়াদে এই উপাদানগুলোর নিরবচ্ছিন্নতা)। খাদ্য নিরাপত্তা শুধু খাদ্যের পরিমাণ বা সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বাজারব্যবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকট খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
পুষ্টি নিরাপত্তা হলো খাদ্য নিরাপত্তার একটি উন্নত ধাপ। পুষ্টি নিরাপত্তা বলতে বোঝায়, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হওয়া, যাতে তারা সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে ও জীবনযাপন করতে পারে। শুধু যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য খাওয়াই যথেষ্ট নয়, সুষম খাদ্য খেতে হবে। খাদ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ উপাদান, ক্যালরি ইত্যাদির সঠিক ভারসাম্য থাকা চাই। দারিদ্র্য, অজ্ঞতা, কুসংস্কার, খাদ্যাভ্যাস, মাতৃশিক্ষা—এগুলো পুষ্টি নিরাপত্তার বড় প্রভাবক। অপুষ্টি শিশুমৃত্যু, খর্বতা, দুর্বলতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম কারণ।
নিরাপদ খাদ্য হলো এমন খাদ্য, যা কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক, জীবাণু, কীটনাশক বা ভেজাল পদার্থ মুক্ত এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। নিরাপদ খাদ্য না হলে তা পুষ্টি বা খাদ্য নিরাপত্তা দিয়েও ক্ষতিপূরণ হয় না। খাদ্যে বিষক্রিয়া, খাদ্যবাহিত রোগ বা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় খাদ্য ও পুষ্টি থাকা সত্ত্বেও তা নিরাপদ না হলে পুরো ব্যবস্থা ব্যর্থ হতে পারে। উন্নয়নশীল দেশে রাসায়নিক দ্রব্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, খাদ্যে ভেজাল, সংরক্ষণের ত্রুটি এবং বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা খাদ্যকে অনিরাপদ করে তোলে। একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্য—এই তিনটি স্তম্ভ একসাথে নিশ্চিত করতে হবে। শুধু খাদ্য সরবরাহ নয়, বরং মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের অভিগম্যতা প্রয়োজন। সরকার, সমাজ এবং ব্যক্তি—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এটি সম্ভব নয়।
‘স্বল্পোন্নত দেশ’ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদা থেকে ২৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে উত্তরণ করা হবে। এলডিসি হলো এমন একটি দেশ, যেখানকার অর্থনীতি, মানবসম্পদ এবং অবকাঠামোতে উন্নয়ন উচ্চমাত্রায় পৌঁছায়নি। এই মর্যাদা প্রাপ্ত দেশগুলো জিডিপি সীমিত আয় থেকে রপ্তানি ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত বা শুল্কহ্রাসের সুবিধা, আন্তর্জাতিক সহায়তা, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কারিগরি সহায়তা ইত্যাদি বিশেষ সুবিধাদি পেয়ে থাকে।
বাংলাদেশের জন্য এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের নির্ধারিত তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৬। অর্থাৎ, সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে ঐ দিনই বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা ত্যাগ করে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উত্তরণের মুহূর্ত থেকে পরবর্তী ৩ বছর একটি ‘সক্ষমতা রূপান্তর সুবিধা’ দেওয়া হবে, যাতে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা যায়। উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব বা চ্যালেঞ্জ হলো: শুল্ক সুবিধা হ্রাস বা বন্ধ, রপ্তানিতে চ্যালেঞ্জ, সাহায্য ও সহায়তা হ্রাস, এবং নতুন মর্যাদা ও চাপের জন্য প্রস্তুতি।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের জন্য যেমন কিছু ইতিবাচক সুযোগ সৃষ্টি হবে, তেমনই কৃষি খাতসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জও বয়ে আনবে। বিশেষ করে, কৃষি উপকরণ—যেমন বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদির ওপর আমদানি কর ৬ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং কৃষকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একই সঙ্গে সরকারের দেওয়া কৃষি ভর্তুকি হ্রাস পেলে কৃষকদের সেচ, বীজ, সার এবং যন্ত্রপাতির জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে, যা তাদের উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
বর্তমান বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে কৃষি খাতে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ হ্রাস এবং আমদানি কর বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি (যেমন সার, বীজ, জ্বালানি ও সেচ ব্যবস্থার খরচ কমিয়ে) কৃষি কার্যক্রমকে সহনশীল করে তোলে। এই ভর্তুকির অভাবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, যা কৃষকের উৎপাদন আগ্রহ ও সক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। অন্যদিকে, আমদানি কর বৃদ্ধি দেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে। এই পরিবর্তনগুলো শুধু মানব খাদ্য নয়, প্রাণিখাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এছাড়াও, ডিজেল ও বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আছে, যা সরাসরি ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই চ্যালেঞ্জগুলো খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, প্রতি বছর কৃষিজমি কমে যাওয়া এবং ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা ২০ কোটির বেশি ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে খাদ্যের চাহিদা ব্যাপকহারে বাড়বে, যা বর্তমানে যে কৃষি উৎপাদন অবকাঠামো আছে, তা দিয়ে সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
এ প্রেক্ষাপটে এখনই সময় একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের। নীতি নির্ধারকদের উচিত, কৃষি উপকরণের কর হ্রাস, প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই কৃষির প্রসার, কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য সরাসরি সহায়তা নিশ্চিত করা। তবেই ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি টেকসই করা সম্ভব হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























