রাজশাহীর তানোরে নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে যাওয়ার পর ৩২ ঘণ্টা পর শিশু সাজিদকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। নলকূপের গর্তের ৬০ ফুট নিচ থেকে উদ্ধারের পর তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৭ মিনিটে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, শিশুটিকে ৬০ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেছেন।
তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বার্নাবাস হাসদাক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিশু সাজিদকে হাসপাতালে ৯টা ২০ মিনিটের দিকে নিয়ে আসা হয়। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।’
তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত ঘোষণার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃত সাজিদের গ্রামের বাড়িতে মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এর আগে বুধবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সাজিদ নামের দুই বছর বয়সী শিশুটি গভীর গর্তে পড়ে যায়। শিশুটি তার মায়ের হাত ধরে কেটে নেওয়া ধানের ক্ষেতে হাঁটছিল। হঠাৎ গর্তে পড়ে যায়। উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলাম সাজিদের বাবা। রাকিব ঢাকায় একটি জুট মিলের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন।
শিশুটি গর্তে পড়ার খবর পেয়ে বিকাল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের তিন ইউনিট। পাশাপাশি তাকে বাঁচাতে ওই গর্তে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হয়। গভীর সুড়ঙ্গ খুঁড়ে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, শিশুটি গর্তে পড়ে যাওয়ার খবর তারা পেয়েছেন বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে। এসে দেখেন, স্থানীয় লোকজন চেষ্টা করতে গিয়ে গর্তের ভেতরে কিছু মাটি ফেলেছেন। বিকাল ৪টা পর্যন্ত শিশুটির সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল। পরে মানুষের হট্টগোলের কারণে আর সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালিয়ে যায়। শিশুটিকে উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা করা হয়।
শিশুটির মা রুনা খাতুন জানিয়েছেন, দুপুর ১টার দিকে মেজো ছেলে সাজিদের হাত ধরে তিনি বাড়ির পাশে মাঠে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার ছোট একটি সন্তান কোলে ছিল। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ মা বলে ডেকে ওঠে। তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখেন, ছেলে নেই, গর্তের ভেতর থেকে ‘মা, মা’ বলে ডাকছে। গর্তটির ওপরে খড় বিছানো ছিল। ওখানে যে গর্ত ছিল, সেটা তিনিও বুঝতে পারেননি, ছেলেও। ওই জায়গায় পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলে গর্তের ভেতর পড়ে গেছে। লোকজনকে ডাকতে ডাকতেই ছেলে গর্তের নিচে চলে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানোর উপজেলার পচন্দর ইউনিয়নের এই গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এই এলাকায় এখন গভীর নলকূপ বসানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। এ অবস্থার মধ্যে কোয়েলহাট গ্রামের বাসিন্দা জমির মালিক কছির উদ্দিন একটি গভীর নলকূপ বসাতে চেয়েছিলেন। বছরখানেক আগে ৮ ফুট ব্যাসার্ধের মুখ করে খনন করেছিলেন। কিন্তু পানি না পেয়ে নলকূপ বসাননি। সেই গর্ত ভরাটও করেছিলেন, কিন্তু বর্ষায় মাটি বসে গিয়ে নতুন করে গর্ত হয়। সেই গর্তেই শিশুটি পড়ে যায়।
রিপোর্টারের নাম 






















