ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহনে জড়িত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন ৩০টির বেশি জাহাজ নতুন করে শাস্তির মুখে পড়তে পারে। দেশটির তেলবোঝাই একটি সুপারট্যাংকার জব্দের পর এ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি সুপারট্যাংকার জব্দের ঘোষণা দেন। ২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ভেনেজুয়েলার তেল কার্গো জব্দের ঘটনা এটিই প্রথম। ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধির পর এটিকে ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপের ফলে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক জাহাজমালিক, অপারেটর ও এজেন্ট ভেনেজুয়েলার জলসীমা থেকে নির্ধারিত যাত্রা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনিজুয়েলা থেকে স্বল্পমেয়াদে রফতানি ব্যাহত হতে পারে এই অভিযানে। কিছু মালিক হয়ত ঝুঁকি এড়াতে পিছু হটতে পারেন। এর আগে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার রফতানিতে সরাসরি বাধা দেয়নি। এসব তেল রফতানি সাধারণত তৃতীয় পক্ষের জাহাজের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
জব্দ অভিযানের পর ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চুরি ও আন্তর্জাতিক জলদস্যুতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।
জব্দ হওয়া সুপারট্যাংকারটি ‘স্কিপার’ নামের একটি জাহাজ। এটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’–এর অংশ। এসব জাহাজ প্রায়ই তাদের সংকেত বন্ধ করে রাখে বা অবস্থান গোপন করে। নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনে এমন জাহাজের ব্যবহার বেড়েছে।
আগের নিষেধাজ্ঞায় ভেনেজুয়েলাসংশ্লিষ্ট বহু জাহাজ সপ্তাহের পর সপ্তাহ এবং কখনও মাসের পর মাস অপেক্ষা করে রফতানি এলাকা ছাড়তে পারেনি। বুধবার পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার উপকূল বা জলসীমায় ৮০টির বেশি তেলবাহী জাহাজ অবস্থান করছিল, যার মধ্যে ৩০টিরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকম থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
বৈশ্বিক ‘শ্যাডো ফ্লিট’–এ রয়েছে ১ হাজার ৪২৩টি ট্যাংকার। এর মধ্যে ৯২১টি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন বা ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স। এসব জাহাজ সাধারণত তুলনামূলক পুরোনো, মালিকানা অস্পষ্ট এবং আন্তর্জাতিক মানের বীমা ছাড়াই পরিচালিত হয়। রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার নিষিদ্ধ তেল এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে তারা পরিবহন করে থাকে।
ভেনেজুয়েলায় এসব জাহাজ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পিডিভিএসএ–র পরিচালিত বন্দর থেকে ভুয়া নামে তেল বোঝাই করে। আটলান্টিক অতিক্রমের সময় তারা অবস্থান গোপন রাখে এবং সাধারণত মালয়েশিয়া বা চীনের দিকে এগিয়ে যায়।
রিপোর্টারের নাম 



















