কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে মানবপাচারকারীদের কবল থেকে এক নারীসহ সাত জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টেকনাফের সাবরাং এলাকার মুন্ডার ডেইল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আটক দুই পাচারকারী হলেন- টেকনাফের পুরাতন পল্লাপন পাড়ার বাসিন্দা ইসমাইল ও রোহিঙ্গা যুবক আলম।
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, বিমানে মালয়েশিয়া পাঠানোর লোভ দেখিয়ে দালালচক্র ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন সময়ে জিম্মি করে সাগরপথে পাচারের চেষ্টা চালায়। সাগরে যাওয়ার পর ট্রলারটি ডাকাত দলের হামলার শিকার হলে প্রাণ বাঁচাতে মাঝি তীরে ফিরে আসেন। পরে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, বিমানে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রলোভনে জিম্মি করে পাচারের খবর পেয়ে বিজিবি অভিযান চালায়। এ সময় দুই দালালসহ পাচারের শিকার সাত জনকে উদ্ধার করা হয়। দালালদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধার হওয়া নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য দালালকে এক বছর আগে টাকা দিয়েছি। পরে দালাল নানান অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। দালাল জানায়, নতুন এজেন্সির মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া পাঠাবে, ফ্লাইট হবে চট্টগ্রাম থেকে। আমরা ছয় জন চট্টগ্রামে গেলে আবার বলে টেকনাফে কাগজ ঠিক করতে হবে। টেকনাফে পৌঁছালে হুজুর টাইপের একজন আমাদের একটি ঝুপড়ি ঘরে আটকে রাখেন। মোবাইল কেড়ে নেন, মারধর করে ট্রলারে তোলেন। মাঝপথে ডাকাতদের হামলার পর মাঝি তীরে নামিয়ে দিলে বিজিবি আমাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া উখিয়ার যুবক তাওহিদও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, রামুর একটি ফার্মে কাজ করতাম। পরিচয়ের সূত্র ধরে আমাকে টেকনাফে ভালো কাজের কথা বলে আনা হয়। কিন্তু পৌঁছে বুঝলাম আমাদের পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। একটি ঘরে আটকে রেখে দালালচক্র স্পষ্ট জানায়, তোদের বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরে ছোট ট্রলারে তুলে সাগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মাঝসমুদ্রে আরেকটি ডাকাতদলের হামলায় পরিস্থিতি জটিল হলে মাঝি ট্রলার ঘুরিয়ে কূলে ফিরিয়ে আনে। তাওহিদের ভাষায়, ট্রলারে মোট ২২ জন ছিলেন। কূলে ওঠার পর সবাই আতঙ্কে ছুটে পালিয়ে যান। পরে বিজিবি অভিযান চালিয়ে সাত জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
রিপোর্টারের নাম 





















