আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সরকারি ঘোষণার পরও বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত পরীক্ষা বর্জন ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। গত ১ ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক পরীক্ষা) বর্জন করে আসছেন সহকারী শিক্ষকরা। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সহায়তায় এবং সহকারী শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরীক্ষা বর্জনসহ কর্মবিরতি চলছে। কিছু প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিচ্ছেন, অভিভাবক, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সহায়তায়। কিন্তু অভিভাবকরা চান শ্রেণি শিক্ষক যারা শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন তারাই তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন গ্রহণ করুক। তা-না হলে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সারাবছর শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছি। মূল্যায়ন মাত্র আট দিনের, এখনও মূল্যায়নের সময় আছে। শিক্ষার্থীদের এভাবে পরীক্ষা নেওয়া বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি।’
কর্মবিরতি তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন কর্মবিরতির আওতামুক্ত রাখা যায় কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি এখন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। সময় হাতে রয়েছে। মন্ত্রণালয় ইতিবাচক চিন্তা করলে তো সমস্যা থাকে না। শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হবে, পরবর্তী পরিস্থিতি তখন গণমাধ্যমকে জানানো হবে।’
দশম গ্রেড বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে গত ৮ নভেম্বর থেকে অবস্থান কর্মসূচি ও পরদিন থেকে কর্মবিরতিসহ অবস্থান কর্মসূচি পাণ করেন ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ১১তম গ্রেড নির্ধারণের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
শিক্ষকরা জানান, নভেম্বরের মধ্যে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি না হওয়ার কারণে শিক্ষকরা ৩০ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। গত ১ ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন বর্জন করেন শিক্ষকরা। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রান্তিক মূল্যায়ন বন্ধ রয়েছে।
তবে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক একাই প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করছেন পরীক্ষা হলে বাসিয়ে। আবার অনেক এলাকায় শিক্ষা অফিসারদের সহায়তায় এবং অভিভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি জানান শিক্ষকরা।
এদিকে, পরীক্ষা বর্জনের দ্বিতীয় দিনের মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া চার শিক্ষক— প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খাইরুন নাহার লিপি এবং মাহবুবুর রহমানকেও শোকজ করা হয়।
এই ঘটনার পর বুধবার (৩ ডিসেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এবং প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ বৈঠক করে দাবি বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। এই ঘটনার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন।
শিক্ষকদের তিন দফা- সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা; শিক্ষকদের ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান; এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।
রিপোর্টারের নাম 


























