ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নীরব মৃত্যুফাঁদ: সীতাকুণ্ডে আধুনিক ট্রমা সেন্টারের অভাব ও স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই অংশ বর্তমানে এক নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডরে প্রতিদিনই ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনো দিন বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, কোনো দিন কনটেইনারবাহী কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা, আবার কোনো দিন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। এই দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কের পাশে আজও গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক ট্রমা সেন্টার, যার ফলে দুর্ঘটনায় আহত অনেকেই সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনটি ১৯৬২ সালে নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত এই ভবনটির বিভিন্ন অংশে অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। জনবল সংকটের পাশাপাশি অবকাঠামোগত দুর্বলতাও হাসপাতালটির অন্যতম বড় সমস্যা। হাসপাতালটিতে মোট ৩৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ছয়জন চিকিৎসক। দীর্ঘদিন ধরে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। বিশেষত, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন আটজন, যার মধ্যে দুজন চিকিৎসক প্রেষণে রয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সার্জারি কনসালট্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে, যা ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও বাস্তবে রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেশি। প্রতিদিন জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। অতীতে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। দেশের বাণিজ্য, শিল্প ও আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, কনটেইনারবাহী যান, মোটরসাইকেল এবং ভারী শিল্পকারখানার পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় সড়কটি দিনে দিনে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বেপরোয়া গতি, অসচেতন চালনা, ওভারটেকিং এবং যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জোবায়দুল হুদা জুয়েল বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় গোল্ডেন আওয়ার বলা হয়।’ এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আহতদের দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা প্রদান নিশ্চিত করা না গেলে জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই, মহাসড়কের পাশে আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপন এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনবল সংকট নিরসন এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস: চার মাসে আয় কমেছে ১১ শতাংশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নীরব মৃত্যুফাঁদ: সীতাকুণ্ডে আধুনিক ট্রমা সেন্টারের অভাব ও স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই অংশ বর্তমানে এক নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডরে প্রতিদিনই ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনো দিন বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, কোনো দিন কনটেইনারবাহী কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা, আবার কোনো দিন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। এই দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কের পাশে আজও গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক ট্রমা সেন্টার, যার ফলে দুর্ঘটনায় আহত অনেকেই সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনটি ১৯৬২ সালে নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত এই ভবনটির বিভিন্ন অংশে অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। জনবল সংকটের পাশাপাশি অবকাঠামোগত দুর্বলতাও হাসপাতালটির অন্যতম বড় সমস্যা। হাসপাতালটিতে মোট ৩৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ছয়জন চিকিৎসক। দীর্ঘদিন ধরে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। বিশেষত, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন আটজন, যার মধ্যে দুজন চিকিৎসক প্রেষণে রয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সার্জারি কনসালট্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে, যা ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও বাস্তবে রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেশি। প্রতিদিন জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। অতীতে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। দেশের বাণিজ্য, শিল্প ও আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, কনটেইনারবাহী যান, মোটরসাইকেল এবং ভারী শিল্পকারখানার পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় সড়কটি দিনে দিনে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বেপরোয়া গতি, অসচেতন চালনা, ওভারটেকিং এবং যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জোবায়দুল হুদা জুয়েল বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় গোল্ডেন আওয়ার বলা হয়।’ এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আহতদের দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা প্রদান নিশ্চিত করা না গেলে জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই, মহাসড়কের পাশে আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপন এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনবল সংকট নিরসন এখন সময়ের দাবি।