শেখ হাসিনা এবং তার অনুসারীরা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার প্রচার চালাচ্ছেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। এই উদ্দেশ্যে তিনি দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছিলেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। দেশের কিছু চিহ্নিত আওয়ামী নেতা দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনা কী করবেন, তা নিয়ে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন। শেখ হাসিনা যেদিন দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন, সেদিন তিনি এক কাপড়ে হেলিকপ্টারে চড়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী বলয়ের প্রচারণায় মনে হচ্ছিল তিনি যেন এক বিরাট বিজয়ের পর ‘ইউরেকা’ বলে উল্লাস করতে করতে দেশে ফিরবেন, যা দেখে দেশের অর্ধেক মানুষ ফিট হয়ে পড়বে! এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ভাসমানতার ধারণাটি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
প্রাচীন গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সূত্র অনুযায়ী, কোনো বস্তু তরল বা গ্যাসে নিমজ্জিত হলে তার ওপর একটি ঊর্ধ্বমুখী শক্তি (Buoyant Force) ক্রিয়া করে, যা বস্তুকে ভেসে থাকতে বা উঠতে সাহায্য করে। রাজনীতিতেও ‘রাজনৈতিক ভাসমানতা’ (Political Buoyancy) বলে একটি ধারণা রয়েছে। এর অর্থ হলো, কোনো রাজনৈতিক দল সাময়িকভাবে পরাজিত হলেও বা রাষ্ট্রীয় শক্তিবলে বিতাড়িত হলেও আবার রাজনীতিতে ফিরে আসার বা ভেসে ওঠার ক্ষমতা রাখে। একটি রাজনৈতিক দল যখন জনগণের সমর্থন, আদর্শ, ইতিহাস, সংস্কৃতি বা জাতীয় চেতনার গভীরে প্রোথিত থাকে, তখন তাকে সাময়িকভাবে ডুবিয়ে রাখা গেলেও চিরতরে বিলীন করা সম্ভব হয় না।
রাজনৈতিক ভাসমানতার এই শক্তি কেবল সাংগঠনিক ক্ষমতা থেকে আসে না; এটি জনগণের বিশ্বাস, ঐতিহাসিক বৈধতা, আদর্শিক ভিত্তি এবং জাতীয় আবেগের সঙ্গে সংযোগ থেকে উদ্ভূত হয়। তবে, রাজনৈতিক ভাসমানতা কোনো চিরস্থায়ী সম্পদ নয়। কোনো দল যদি তার আদর্শিক ভিত্তি, জনআস্থা, সাংগঠনিক শক্তি এবং জনগণের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলে, তবে তার এই ভাসমানতার শক্তিও ক্ষয় হতে থাকে। একসময় সেই দল আর আগের মতো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে না।
রিপোর্টারের নাম 
























