নরসিংদীর বাবুরহাটে ব্রহ্মপুত্র নদ দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে তোলার মাধ্যমে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে নদটি দখল ও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি কাপড়ের বাজার হিসেবে পরিচিত বাবুরহাটের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদের দুই তীর ঘেঁষে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই দোকান তৈরির জন্য অস্থায়ী ভিটি বাণিজ্য চালাচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এবং বাজার কমিটির সমন্বয়ে নদী দখল করে তৈরি এসব ভিটি থেকে তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা ও বাজার কমিটি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের জেরে বাজার তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের প্রশস্ততাও কমে যাচ্ছে।
প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার খ্যাত নরসিংদীর শেখেরচর-বাবুরহাট দেশের অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি কাপড়ের বাজার। এখানে দেশীয় কাপড়ের সিংহভাগ চাহিদা পূরণকারী প্রায় পাঁচ হাজার সরকারি-বেসরকারি দোকান রয়েছে। সরকার সাধারণত ভিটি বরাদ্দের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আলমগীর হোসেন এবং বাবুরহাট বণিক সমিতির সভাপতি ও শিলমান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিনের সমন্বয়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ দখল করে টিনশেড দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে। এমনকি বাচারি ভিটিতেও পাকা বহুতল ঘর তৈরির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ভিটি থেকে দখলকারীদের কাছ থেকে তিন থেকে চার লাখ টাকা করে আদায় করা হয়েছে, যদিও ব্যবসায়ীদের এই বিষয়ে মুখ না খোলার শর্ত দেওয়া হয়েছে। নদী দখল করে নির্মিত এসব ভিটির কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে এই চক্রটি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। যেখানে সরকার নদী দখল উচ্ছেদের জন্য কাজ করছে এবং কিছুদিন আগেও উপজেলা প্রশাসন অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেছে, সেখানে বাজার কমিটি ও ভূমি কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে অবৈধ ভিটি তৈরি করতে দিচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড লাগানো হলেও তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা তার নিজস্ব ক্ষমতা বলে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব ভিটি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় শিলমান্দী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি নিজস্বভাবে কিছু করিনি। যা করার এসিল্যান্ডের নির্দেশনায় হয়েছে।’ এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রিপোর্টারের নাম 






















