মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

আপন ভাই-বোনকে জাকাত দেওয়ার বিধান: শরিয়ত কী বলে?

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, জাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অভাবী নিকটাত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদি নিজের আপন ভাই বা বোন নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হন এবং জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন, তবে তাদের জাকাত দেওয়া কেবল জায়েজই নয়, বরং এটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

পবিত্র কোরআনের সুরা আত-তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে জাকাত বণ্টনের যে আটটি খাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে ‘ফকির’ ও ‘মিসকিন’ অন্যতম। নিজের দরিদ্র ভাই-বোন এই খাতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, ওই ভাই-বোন যেন দাতার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল না হন। অর্থাৎ যাদের ভরণপোষণের আইনি ও ধর্মীয় দায়িত্ব দাতার ওপর ন্যস্ত (যেমন স্ত্রী, সন্তান বা মা-বাবা), তাদের জাকাত দেওয়া যায় না। কিন্তু পৃথক সংসারে থাকা অভাবী ভাই-বোনকে জাকাত দেওয়া যাবে।

হাদিস শরিফে নিকটাত্মীয়কে জাকাত বা সদকা প্রদানের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, সাধারণ গরিবকে দান করলে একটি সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু আত্মীয়কে দান করলে দুটি সওয়াব অর্জিত হয়—একটি জাকাত আদায়ের এবং অন্যটি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার।

ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, সামাজিক ও পারিবারিক সংহতি রক্ষায় জাকাতের এই বিধান অত্যন্ত কার্যকর। যদি কোনো ব্যক্তির ভাই বা বোন ঋণের দায়ে জর্জরিত থাকেন বা মৌলিক চাহিদা পূরণে অক্ষম হন, তবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়ার চেয়ে নিজের ভাই-বোনকে সাহায্য করাই উত্তম। এতে একদিকে যেমন ধর্মীয় বিধান পালিত হয়, অন্যদিকে পরিবারের অভাব দূর করার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার, সাবেক স্ত্রীকে ফিরে পেতে ফুপার কাণ্ড

আপন ভাই-বোনকে জাকাত দেওয়ার বিধান: শরিয়ত কী বলে?

আপডেট সময় : ০৯:০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, জাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অভাবী নিকটাত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদি নিজের আপন ভাই বা বোন নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হন এবং জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন, তবে তাদের জাকাত দেওয়া কেবল জায়েজই নয়, বরং এটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

পবিত্র কোরআনের সুরা আত-তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে জাকাত বণ্টনের যে আটটি খাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে ‘ফকির’ ও ‘মিসকিন’ অন্যতম। নিজের দরিদ্র ভাই-বোন এই খাতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, ওই ভাই-বোন যেন দাতার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল না হন। অর্থাৎ যাদের ভরণপোষণের আইনি ও ধর্মীয় দায়িত্ব দাতার ওপর ন্যস্ত (যেমন স্ত্রী, সন্তান বা মা-বাবা), তাদের জাকাত দেওয়া যায় না। কিন্তু পৃথক সংসারে থাকা অভাবী ভাই-বোনকে জাকাত দেওয়া যাবে।

হাদিস শরিফে নিকটাত্মীয়কে জাকাত বা সদকা প্রদানের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, সাধারণ গরিবকে দান করলে একটি সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু আত্মীয়কে দান করলে দুটি সওয়াব অর্জিত হয়—একটি জাকাত আদায়ের এবং অন্যটি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার।

ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, সামাজিক ও পারিবারিক সংহতি রক্ষায় জাকাতের এই বিধান অত্যন্ত কার্যকর। যদি কোনো ব্যক্তির ভাই বা বোন ঋণের দায়ে জর্জরিত থাকেন বা মৌলিক চাহিদা পূরণে অক্ষম হন, তবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়ার চেয়ে নিজের ভাই-বোনকে সাহায্য করাই উত্তম। এতে একদিকে যেমন ধর্মীয় বিধান পালিত হয়, অন্যদিকে পরিবারের অভাব দূর করার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।