মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই বিপ্লব: ছাত্র-জনতার দমনে বিধ্বংসী ৭.৬২ বুলেটের ব্যবহার, ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে পুলিশ বিধ্বংসী ৭.৬২ বোর বুলেট ব্যবহার করেছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় জানানো হয়, সারাদেশে আন্দোলন দমনে সে সময় তিন লাখেরও বেশি রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলি ছোড়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল অত্যন্ত প্রাণঘাতী ৭.৬২ এমএম বুলেট, যা সাধারণত সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে থাকে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম যুক্তিতর্কে উল্লেখ করেন, পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্যানুযায়ী, সিভিলিয়ানদের ওপর এই ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ঢাকা শহরেই ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল এবং নিহতদের অনেকের দেহেই এই বিশেষায়িত বুলেটের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের সাক্ষাৎকার ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিন ট্রাইব্যুনালে বিগত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ তৎকালীন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের দায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রসিকিউশন জানায়, তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশে এবং দলীয় শীর্ষ নেতাদের উসকানিতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলো সারাদেশে সাধারণ মানুষের ওপর এই নৃশংসতা চালিয়েছিল। বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারের আমলে এই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এগিয়ে চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার, সাবেক স্ত্রীকে ফিরে পেতে ফুপার কাণ্ড

জুলাই বিপ্লব: ছাত্র-জনতার দমনে বিধ্বংসী ৭.৬২ বুলেটের ব্যবহার, ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০৯:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে পুলিশ বিধ্বংসী ৭.৬২ বোর বুলেট ব্যবহার করেছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় জানানো হয়, সারাদেশে আন্দোলন দমনে সে সময় তিন লাখেরও বেশি রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলি ছোড়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল অত্যন্ত প্রাণঘাতী ৭.৬২ এমএম বুলেট, যা সাধারণত সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে থাকে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম যুক্তিতর্কে উল্লেখ করেন, পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্যানুযায়ী, সিভিলিয়ানদের ওপর এই ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ঢাকা শহরেই ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল এবং নিহতদের অনেকের দেহেই এই বিশেষায়িত বুলেটের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের সাক্ষাৎকার ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিন ট্রাইব্যুনালে বিগত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ তৎকালীন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের দায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রসিকিউশন জানায়, তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশে এবং দলীয় শীর্ষ নেতাদের উসকানিতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলো সারাদেশে সাধারণ মানুষের ওপর এই নৃশংসতা চালিয়েছিল। বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারের আমলে এই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এগিয়ে চলছে।