বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শীর্ষ সূত্রের তথ্যমতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশটির রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে একই সাথে বিএনপির মহাসচিব পদ, জাতীয় সংসদ সদস্যের আসন এবং সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির একটি শীর্ষ পদ খালি হবে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে দলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় স্থায়ী কমিটির আরেকটি পদ ইতোমধ্যে ফাঁকা রয়েছে। সার্বিক দলীয় পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর বা ডিসেম্বরের সম্ভাব্য জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটির এই দুই শূন্য পদ পূরণ করা হতে পারে।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে সুবিধার জন্য মির্জা ফখরুলের স্থানে আপাতত নতুন ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ নিয়োগের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এই অতিগুরুত্বপূর্ণ পদের দৌড়ে সর্বাধিক আলোচনায় এগিয়ে আছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বরত রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে দৃঢ় নেতৃত্ব ও দলের প্রতি নিবেদিত ভূমিকার কারণে দলীয় অধিকাংশ নেতাকর্মী ও প্রতিনিধিরা তাঁকেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দেখছেন। অবশ্য এই পদের দৌড়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও অনানুষ্ঠানিকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পছন্দ ও নির্দেশনাই শেষ কথা হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে, প্রশাসনিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির চেয়ারে আসীন হলে তাঁর অধীনে থাকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়টির দায়িত্বেও রদবদল ঘটা নিশ্চিত। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দায়িত্বরত স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে, অথবা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকেও নতুন দায়িত্বে নিয়ে আসা হতে পারে।
একইসাথে মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষিত হলে সেখানে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী কে হবেন—ফখরুল পরিবারের কোনো সদস্য নাকি অভিজ্ঞ কোনো দলীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—তা নিয়েও দলের ভেতরে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























