হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির এবং কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা বলেছেন, কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা দলের পরিচিতি নির্বিশেষে তাদের ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বৈধ নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইসলামের বিধান সবার জন্য সমান এবং কোনো ব্যক্তির বিশেষ মর্যাদা বা অবদান শরিয়তের বিধানকে পরিবর্তন করতে পারে না।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি জুলাই মাসে একটি জাদুঘরে হেফাজত নেতাকর্মীদের নামে বা অবয়বে স্থাপিত ভাস্কর্যকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যারা ইসলামি মূল্যবোধ ও শরিয়তের পক্ষে কাজ করেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের নামেও এমন কোনো কাজ করা উচিত নয় যা ইসলামি বিধানের পরিপন্থী।
পীর সাহেব দেওনা স্মৃতি সংরক্ষণের বিকল্প পদ্ধতির ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে তথ্যচিত্র, আলোকচিত্র, লিখিত ইতিহাস, দলিলপত্র এবং জাদুঘরভিত্তিক প্রদর্শনীসহ শরিয়তসম্মত বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। এতে ইতিহাস সংরক্ষিত হবে এবং একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধও অক্ষুণ্ণ থাকবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে জাদুঘর থেকে হেফাজত নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণ করতে হবে। একই সাথে ভবিষ্যতে কোনো আলেম, ইসলামি ব্যক্তিত্ব বা ইসলামি দলের নেতাকর্মীর ভাস্কর্য নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনে অনেক আলেম কারাবরণ করেছেন বা শাহাদাতবরণ করেছেন, অথচ তাদেরই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সাহাবায়ে কেরামের উদাহরণ টেনে বলেন যে, তাদের কোনো ভাস্কর্য না থাকলেও তাঁদের মহান জীবন ও আদর্শ ইতিহাসে সংরক্ষিত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























