নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় সদ্য প্রকাশিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ এবং বরিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই এবারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯ জন, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ থেকে ৭ জন এবং বরিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। বিপুল প্রত্যাশা থাকলেও ফলাফলের তালিকায় দেখা গেছে শূন্য পাসের হার। এই ব্যর্থতার পেছনে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির নিম্ন-মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হলেও মাধ্যমিক স্তরটি দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, নবম ও দশম শ্রেণি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কোনো স্থায়ী শিক্ষক নেই। অবকাঠামোগত জরাজীর্ণতা, মাটির ঘর এবং টিনের শেডের নিচে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বর্ষা ও গ্রীষ্মে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব প্রতিকূলতার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হতে চায় না, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ফলাফলে।
অন্যদিকে, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজের কারিগরি শাখাটি ২০১১ সালে চালু হলেও দীর্ঘ দেড় দশকেও তা এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠান প্রধানের মতে, শিক্ষক সংকটের কারণে কলেজ শাখার শিক্ষকদের দিয়ে মাধ্যমিকের ক্লাস নিতে হয়। এছাড়া কারিগরি শাখায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগই কর্মজীবী হওয়ায় নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে না, যা এই গণ-ফেলের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বরিয়া দাখিল মাদরাসার চিত্রও অনেকটা একই। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০২২ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হয়নি। মাদরাসার সুপার জানান, প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনাগ্রহ, চরম শিক্ষক সংকট এবং অভিভাবকদের অসচেতনতাই এই ফলাফল বিপর্যয়ের মূল কারণ। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূলের এই জরাজীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংকট দ্রুত নিরসন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
রিপোর্টারের নাম 























