বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও প্রধান ফটকের সামনে এসে মানববন্ধনে রূপ নেয়।
মানববন্ধনে ইবি শাখা ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র ইউনিয়ন, জমিয়তে তালাবিয়া আরাবিয়া, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মিছিল থেকে ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘চাচা না চাকরি, চাকরি চাকরি’, ‘মেধা না চাকরি, চাকরি চাকরি’, ‘শিক্ষা না বাণিজ্য, শিক্ষা শিক্ষা’ এবং ‘কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর পরিবর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই তারা এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের বর্তমান ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানান।
ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আমরা ২০১৮ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে এই প্রথা বিলুপ্ত করেছিলাম। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি স্থানীয় এমপিদের কথায় চলতে চলতে শিক্ষকেরা তাদের জুতার তলা ক্ষয় করে ফেলেছেন। এই প্রথার অবসান ঘটিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও ঘুষমুক্ত একটি ব্যবস্থা চালু করা হোক। আমরা এনটিআরসিএর মাধ্যমেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চাই। যেভাবে শক্ত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল, আমরা সেভাবেই চাই। প্রয়োজনে আইন করে স্থায়ীভাবে এনটিআরসিএর হাতেই নিয়োগ প্রক্রিয়া তুলে দিতে হবে।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, এনটিআরসিএ থেকে কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার একটি রেজুলেশন প্রকাশ করা হলো। এরপর শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক পেজে অ্যাডমিন দিয়ে পোস্ট করানো হলো যে, এটি নাকি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই ধরনের দ্বৈত নীতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























