বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। উপাচার্যের আশ্বাসের পর গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের গায়েবানা জানাজা শেষে এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কের দুপাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
অবরোধ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা জানান, নিহত ইয়াসিন আরাফাতের পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেনে নিয়েছে। পাশাপাশি সড়ক সংস্কারের দাবিও জানানো হয়েছে এবং বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগকে এ জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রবি থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টা পরপর বাস চলাচল করবে। শুক্র ও শনিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টা পরপর বাস চলবে। মঙ্গলবার থেকে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে। এছাড়া, তিনটি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন এবং একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিও প্রশাসন মেনে নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা চাইলে এসব কার্যক্রম তদারক করতে পারবেন বলেও জানানো হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, “আমরা নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। বিআরটিসি থেকে তার পরিবারের একজন সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া সড়ক মেরামতের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ কাজ করবে। আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, নিহতের বাবা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রশাসন কথা বলেছে এবং তাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, শুধু সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুতে বিআরটিসি বাস ও যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে ইয়াসিন আরাফাত নিহত হন এবং অন্তত আরও কয়েকজন আহত হন।
রিপোর্টারের নাম 

























