২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রং তুলিতে মুক্তস্বদেশ’ শীর্ষক চিত্রপ্রদর্শনীতে একটি চিত্রকর্ম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ‘একাত্তরের চেয়ে চব্বিশ ভারী’ শিরোনামের এই চিত্রকর্মটি ৭১ এবং ২৪-কে বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করেছে বলে অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন মহলে।
তবে চিত্রকর্মটির শিল্পী, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিকস ডিজাইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দীপ্ত দিপন দেবনাথ তার শিল্পকর্মের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধকে কখনো সমর্থন করেনি, তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ২৪-কে ৭১-এর চেয়ে বড় করে দেখাতে চায়— চিত্রকর্মে সেটিই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।’
দীপ্ত দেবনাথ আরও স্পষ্ট করে বলেন, তিনি দাঁড়িপাল্লাকে ওজন মাপার যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং এমন একটি গোষ্ঠী বা দলকে বোঝাতে চেয়েছেন যারা নিজেদের স্বার্থে ২৪-এর গুরুত্বকে কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে ৭১-এর ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, চিত্রকর্মটিতে ৭১ লেখা অংশে কেবল সংখ্যাটিই রয়েছে, কারণ একাত্তরের গুরুত্বের জন্য অন্য কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ২৪ লেখা অংশের সঙ্গে কিছু ইট-পাথরের টুকরা যোগ করা হয়েছে, যা দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে ২৪-এর দিকে অতিরিক্ত ওজন দেওয়া হচ্ছে এবং তা করা হচ্ছে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীর স্বার্থে।
এই চিত্রকর্মটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান নিশ্চিত করেন যে, ছবিগুলো আগে থেকে পর্যালোচনা না করার কারণেই এমন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি আরও জানান, প্রশাসন কোনো বিতর্কিত বিষয়কে কখনোই প্রশ্রয় দেবে না।
চিত্রকর্মটিতে একটি হাতের মুষ্টিতে ধরা দাঁড়িপাল্লার একপাশে লাল অক্ষরে ‘৭১’ এবং অপরপাশে কালো অক্ষরে ‘২৪’ লেখা ছিল। ২৪ লেখা পাল্লাটি কিছুটা নিচের দিকে ঝুঁকানো দেখা যায়, যা দেখে অনেকে একাত্তরের তুলনায় চব্বিশের গুরুত্ব বেশি বোঝানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন, আর তা থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
রিপোর্টারের নাম 





















