মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনায় জেলফেরত আসামির হাতে আবারও হামলার শিকার বাদীর ভাই, আতঙ্কে পরিবার

নেত্রকোনার মদনে পূর্বশত্রুতার জের ধরে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবারও বাদীর ভাইকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর ভয়ে বাড়িছাড়া হয়েছেন বাদীপক্ষ। বর্তমানে বসতবাড়িতে নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের কদমশ্রী নওধার (বঙ্গাল হাঁটি) গ্রামের শান্তু মিয়া, আজমাতুল ইসলাম, রবি মিয়া, হাবি মিয়া গংদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। তাদের ভয়ে লোকমান মিয়ার পরিবার পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি এক শিশুকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তু মিয়া ও লোকমান মিয়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় লোকমান মিয়া গত ২ মার্চ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় শান্তু মিয়ার পক্ষের হাবি মিয়া জেল খাটেন। জেল থেকে বের হওয়ার পর গত ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে লোকমানের ভাই আক্কাস মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে জৈনক আহম্মদ আলীর বসতবাড়ির সামনে কাঁচা রাস্তার ওপর শান্তু মিয়ার লোকজন কুপিয়ে জখম করে।

এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে লোকমান মিয়া গত ৫ আগস্ট মদন থানায় শান্তু মিয়াসহ ১০ জন এবং অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা করেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে মঙ্গলবার সকালে সরজমিনে পদমশ্রী নওধার (বাঙ্গাল হাঁটি) গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, লোকমান মিয়ার পরিবার গৃহবন্দি অবস্থায় আছে। তাদের শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না, পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হাট-বাজার করতে পারছেন না এবং নারীরাও বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কদমশ্রী সকাল বাজারের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, লোকমান মিয়ারা খুবই নিরীহ প্রকৃতির লোক। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে। তারা আরও বলেন, গত কয়েক দিন আগে লোকমান মিয়ার ভাই আক্কাস মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছিল, সে এখনও চিকিৎসাধীন। শান্তু মিয়া ও হাবি মিয়ার লোকজনের অত্যাচারে লোকমান মিয়ার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গত কয়েক দিন ধরে বাড়িতে আসতে পারছেন না। এমনকি শিশুরা তাদের ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। নারীরা ঘরে থাকলেও গৃহবন্দি অবস্থায় আছে। স্থানীয়দের মতে, অভিযুক্তরা উশৃঙ্খল প্রকৃতির লোক এবং তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন প্রকাশ্যে কথা বলতে চায় না।

এ বিষয়ে লোকমানের স্ত্রী বিউটি আক্তার সাংবাদিকদের কাছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। তিনি বলেন, তাদের ভয়ে আমরা ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাই না। আমার স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যরা তাদের ভয়ে বাড়িছাড়া। এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে চাইলে তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিগত সরকারের আমলে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ: শিবালয়ে তদন্তের দাবি

নেত্রকোনায় জেলফেরত আসামির হাতে আবারও হামলার শিকার বাদীর ভাই, আতঙ্কে পরিবার

আপডেট সময় : ০৩:১৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনার মদনে পূর্বশত্রুতার জের ধরে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবারও বাদীর ভাইকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর ভয়ে বাড়িছাড়া হয়েছেন বাদীপক্ষ। বর্তমানে বসতবাড়িতে নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের কদমশ্রী নওধার (বঙ্গাল হাঁটি) গ্রামের শান্তু মিয়া, আজমাতুল ইসলাম, রবি মিয়া, হাবি মিয়া গংদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। তাদের ভয়ে লোকমান মিয়ার পরিবার পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি এক শিশুকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তু মিয়া ও লোকমান মিয়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় লোকমান মিয়া গত ২ মার্চ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় শান্তু মিয়ার পক্ষের হাবি মিয়া জেল খাটেন। জেল থেকে বের হওয়ার পর গত ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে লোকমানের ভাই আক্কাস মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে জৈনক আহম্মদ আলীর বসতবাড়ির সামনে কাঁচা রাস্তার ওপর শান্তু মিয়ার লোকজন কুপিয়ে জখম করে।

এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে লোকমান মিয়া গত ৫ আগস্ট মদন থানায় শান্তু মিয়াসহ ১০ জন এবং অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা করেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে মঙ্গলবার সকালে সরজমিনে পদমশ্রী নওধার (বাঙ্গাল হাঁটি) গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, লোকমান মিয়ার পরিবার গৃহবন্দি অবস্থায় আছে। তাদের শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না, পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হাট-বাজার করতে পারছেন না এবং নারীরাও বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কদমশ্রী সকাল বাজারের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, লোকমান মিয়ারা খুবই নিরীহ প্রকৃতির লোক। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে। তারা আরও বলেন, গত কয়েক দিন আগে লোকমান মিয়ার ভাই আক্কাস মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছিল, সে এখনও চিকিৎসাধীন। শান্তু মিয়া ও হাবি মিয়ার লোকজনের অত্যাচারে লোকমান মিয়ার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গত কয়েক দিন ধরে বাড়িতে আসতে পারছেন না। এমনকি শিশুরা তাদের ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। নারীরা ঘরে থাকলেও গৃহবন্দি অবস্থায় আছে। স্থানীয়দের মতে, অভিযুক্তরা উশৃঙ্খল প্রকৃতির লোক এবং তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন প্রকাশ্যে কথা বলতে চায় না।

এ বিষয়ে লোকমানের স্ত্রী বিউটি আক্তার সাংবাদিকদের কাছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। তিনি বলেন, তাদের ভয়ে আমরা ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাই না। আমার স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যরা তাদের ভয়ে বাড়িছাড়া। এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে চাইলে তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।