প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বহুল আলোচিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। ঢাকার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে দিল্লিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে তার একজন প্রতিনিধি ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
গতকাল সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে নয়, বরং বিমসটেকের চেয়ারপারসনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রথমবারের মতো সৌজন্য বৈঠক করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দিল্লির প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ নিতেও প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারতকে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে—এই বার্তা দীনেশ ত্রিবেদীকে দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে হাসিনাকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, ভারত তার মর্মার্থ বুঝতে পেরেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করেন যে, দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ কোনোভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয় এমন কোনো কাজ দিল্লি করবে না।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর গতকালের বৈঠকে ভারত সফর নিয়ে আলোচনার বিষয়ে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ভারতে একটি ‘গ্রান্ড ভিজিট’ বা পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিকভাবে সামান্য আলোচনা হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশ না নেওয়ার বিষয়টি ভারত অবগত থাকায়, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 





















