মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

জ্বর ছাড়লেই ডেঙ্গুর আসল বিপদ, ডা. নোবেলের বিশেষ সচেতনতামূলক সতর্কবার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. নোবেল জানান, ডেঙ্গু মূলত তিনটি ধাপ অতিক্রম করে। প্রথম ধাপে ৩ থেকে ৪ দিন তীব্র জ্বর থাকে। তবে জ্বর নামার পর পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার সময়টি হচ্ছে ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ বা ডেঙ্গুর সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়। এ সময় রক্তনালী ছিদ্র হয়ে শরীরের তরল অংশ (প্লাজমা) বের হয়ে যায়, ফলে রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে ‘শক সিন্ড্রোম’ দেখা দিতে পারে—যা বাইরে থেকে সহজে বোঝা যায় না।

চিকিৎসক নোবেলের মতে, সাধারণ মানুষ বা রোগীর স্বজনেরা প্রায়শই প্লাটিলেট কাউন্ট বা পেঁপে পাতার রস খাওয়ানো নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অথচ ডেঙ্গুতে বেশিরভাগ মানুষ প্লাটিলেট কমার কারণে মারা যান না; বরং সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত তরল ও স্যালাইন না দেওয়ায় তৈরি হওয়া মারাত্মক ‘শক’ ও অনিয়ন্ত্রিত পানিশূন্যতার কারণেই রোগীর প্রাণহানি ঘটে।

জ্বর ছেড়ে যাওয়ার পর রোগীর মধ্যে কিছু সুনির্দিষ্ট ‘রেড ফ্ল্যাগ সাইন’ বা বিপদচিহ্ন দেখা দিলে সকাল হওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে:

  • পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়া বা পেট শক্ত করে চেপে ধরে রাখা
  • ৬ ঘণ্টায় ৩ বারের বেশি বমি হওয়া বা তীব্র বমিভাব
  • ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা প্রস্রাব একেবারেই বন্ধ থাকা বা মারাত্মক কমে যাওয়া
  • হাত-পা অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে আসা ও শরীর ঘেমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত খিটখিটে ভাব, অস্থিরতা বা হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে ঝিমিয়ে পড়া
  • নাক, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা কালো রঙের পায়খানা হওয়া

জরুরি ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা জারি করে ডা. নোবেল স্পষ্টভাবে জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে কোনো অবস্থাতেই আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা অ্যাসপিরিন জাতীয় এনএসএআইডি (NSAID) ব্যথানাশক দেওয়া যাবে না। এতে শরীরে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। জ্বরের চিকিৎসায় একমাত্র প্যারাসিটামল এবং শরীর আর্দ্র রাখতে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, ডাল, স্যুপ ও ওরস্যালাইন খাওয়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। জ্বর তিন দিন পার হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ‘অপরাজেয় শক্তি’ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি

জ্বর ছাড়লেই ডেঙ্গুর আসল বিপদ, ডা. নোবেলের বিশেষ সচেতনতামূলক সতর্কবার্তা

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. নোবেল জানান, ডেঙ্গু মূলত তিনটি ধাপ অতিক্রম করে। প্রথম ধাপে ৩ থেকে ৪ দিন তীব্র জ্বর থাকে। তবে জ্বর নামার পর পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার সময়টি হচ্ছে ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ বা ডেঙ্গুর সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়। এ সময় রক্তনালী ছিদ্র হয়ে শরীরের তরল অংশ (প্লাজমা) বের হয়ে যায়, ফলে রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে ‘শক সিন্ড্রোম’ দেখা দিতে পারে—যা বাইরে থেকে সহজে বোঝা যায় না।

চিকিৎসক নোবেলের মতে, সাধারণ মানুষ বা রোগীর স্বজনেরা প্রায়শই প্লাটিলেট কাউন্ট বা পেঁপে পাতার রস খাওয়ানো নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অথচ ডেঙ্গুতে বেশিরভাগ মানুষ প্লাটিলেট কমার কারণে মারা যান না; বরং সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত তরল ও স্যালাইন না দেওয়ায় তৈরি হওয়া মারাত্মক ‘শক’ ও অনিয়ন্ত্রিত পানিশূন্যতার কারণেই রোগীর প্রাণহানি ঘটে।

জ্বর ছেড়ে যাওয়ার পর রোগীর মধ্যে কিছু সুনির্দিষ্ট ‘রেড ফ্ল্যাগ সাইন’ বা বিপদচিহ্ন দেখা দিলে সকাল হওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে:

  • পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়া বা পেট শক্ত করে চেপে ধরে রাখা
  • ৬ ঘণ্টায় ৩ বারের বেশি বমি হওয়া বা তীব্র বমিভাব
  • ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা প্রস্রাব একেবারেই বন্ধ থাকা বা মারাত্মক কমে যাওয়া
  • হাত-পা অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে আসা ও শরীর ঘেমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত খিটখিটে ভাব, অস্থিরতা বা হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে ঝিমিয়ে পড়া
  • নাক, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা কালো রঙের পায়খানা হওয়া

জরুরি ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা জারি করে ডা. নোবেল স্পষ্টভাবে জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে কোনো অবস্থাতেই আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা অ্যাসপিরিন জাতীয় এনএসএআইডি (NSAID) ব্যথানাশক দেওয়া যাবে না। এতে শরীরে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। জ্বরের চিকিৎসায় একমাত্র প্যারাসিটামল এবং শরীর আর্দ্র রাখতে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, ডাল, স্যুপ ও ওরস্যালাইন খাওয়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। জ্বর তিন দিন পার হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।