চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের ফলাফলে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। গতকাল সোমবার প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, পাসের হার নেমে এসেছে গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাস করেছে মাত্র ৬২.২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন, যা গত সরকারের সময়ে পাসের হার বাড়ানোর প্রতিযোগিতার বিপরীতে বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে ক্রমান্বয়ে কমে আসার প্রতিফলন বলে অনেকে মনে করছেন। ফেল করেছে প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৩.৮৬ শতাংশ ছাত্র এবং ৬৬.৬৮ শতাংশ ছাত্রী। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে বেশি।
মাধ্যমিক পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষায় এবারই প্রথম ফলাফল নিয়ে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নকল ঠেকাতে পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার নজরদারি, পুলিশের বডি-অন ক্যামেরা এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থানও এবার অকৃতকার্যের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ। পতিত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে পাসের হার বাড়ানোর যে প্রবণতা ছিল, তা বর্তমানে কমে এসেছে এবং এটিকে প্রকৃত ফল ও মূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গতবার পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সে অনুযায়ী এবার পাসের হার কমেছে ৬.২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তি কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে সর্বনিম্ন ৫৭.৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। অন্যদিকে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছর ২০২০ সালে এই পরীক্ষায় ১১ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৩.০৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন।
এবার সবচেয়ে বেশি পাসের হার ঢাকা বোর্ডে ৭৭.৬৩ শতাংশ, আর সবচেয়ে কম মাদরাসা বোর্ডে ৫৫.৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকেও এই বোর্ডের ফলাফল উল্লেখযোগ্য। ফেল করা প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থীর বিষয়ে সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















