মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

পাবনায় পেঁয়াজে অসময়ের পচন: দিশাহারা কৃষক, ২৫-৩০% ফসল নষ্ট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

পাবনা অঞ্চলে সংরক্ষিত পেঁয়াজে এ বছর ভরা আষাঢ় মাসেই ভয়াবহ পচন দেখা দিয়েছে, যা সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে দেখা যায়। জেলার সুজানগর ও চাটমোহর উপজেলায় সনাতন পদ্ধতির চাতাল এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আধুনিক সংরক্ষণাগার—কোনো পদ্ধতিতেই ঠেকানো যাচ্ছে না এই পচন রোগ। ইতোমধ্যেই দেশি ও হাইব্রিড জাতের সংরক্ষিত পেঁয়াজের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে, যা কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি করেছে।

বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও অসময়ের এই বিপর্যয়ে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। চাটমোহর উপজেলার সোহাগবাড়ী এলাকার পেঁয়াজ চাষি ফজলু জানান, তিনি প্রায় ৪০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছিলেন, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১০০ মণের বেশি পচে গেছে। বাধ্য হয়ে নামমাত্র দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, এতে মণপ্রতি প্রায় হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে।

সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামের চাষি মনোয়ার পারভেজ মানিকও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৪০০ মণ দেশি পেঁয়াজ সরকারি সংরক্ষণাগারে রেখেছিলেন। কিন্তু যথাযথ নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করার পরও ছত্রাক ও ভাইরাসের সংক্রমণে পচন আটকানো যায়নি, দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি অঙ্কুর গজিয়ে উঠেছে।

বর্তমানে ভালো পেঁয়াজের বাজার ১৫০০-১৬০০ টাকা মণ হলেও পচে যাওয়া পেঁয়াজের কারণে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। সদর উপজেলার দোগাছি এলাকার কৃষক রহিম বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, তার ১৮০ মণ পেঁয়াজের প্রায় অর্ধেকই পচে গেছে। বাজারে আনলে সেই পেঁয়াজের দাম বলছে ৩০০-৪০০ টাকা মণ, সর্বোচ্চ ৬০০-৭০০ টাকা। তিনি বলেন, “কৃষকের বাঁচার আর উপায় নাই।”

সুজানগর উপজেলার কোলাদি গ্রামের কৃষক আকাশ প্রাং জানান, তিনি ১৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে ৮০-১০০ মণ ফলন পেয়েছিলেন। মণপ্রতি হাজার থেকে বারোশত টাকা খরচ হলেও শুরুতে চার থেকে সাতশত টাকা দর থাকায় বিক্রি করেননি। এখন পচে যাওয়ায় সেই দর পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষি বিভাগ এই অসময়ের পচনের জন্য মূলত অতিরিক্ত হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ চাষ, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বেশি ফলনের আশায় কৃষকরা এ বছর প্রচুর হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন, যা দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের উপযোগী নয়। পাশাপাশি রোপণ ও উত্তোলনের সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা এই পচন প্রক্রিয়ায় ইন্ধন জুগিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বহুমুখী প্রতিভার অনন্য দৃষ্টান্ত: চাকরি-গবেষণা সামলেও মাস্টার্সে পূর্ণ সিজিপিএ অর্জন সৈয়দ ফাতেহ উদ্দিনের

পাবনায় পেঁয়াজে অসময়ের পচন: দিশাহারা কৃষক, ২৫-৩০% ফসল নষ্ট

আপডেট সময় : ১০:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

পাবনা অঞ্চলে সংরক্ষিত পেঁয়াজে এ বছর ভরা আষাঢ় মাসেই ভয়াবহ পচন দেখা দিয়েছে, যা সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে দেখা যায়। জেলার সুজানগর ও চাটমোহর উপজেলায় সনাতন পদ্ধতির চাতাল এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আধুনিক সংরক্ষণাগার—কোনো পদ্ধতিতেই ঠেকানো যাচ্ছে না এই পচন রোগ। ইতোমধ্যেই দেশি ও হাইব্রিড জাতের সংরক্ষিত পেঁয়াজের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে, যা কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি করেছে।

বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও অসময়ের এই বিপর্যয়ে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। চাটমোহর উপজেলার সোহাগবাড়ী এলাকার পেঁয়াজ চাষি ফজলু জানান, তিনি প্রায় ৪০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছিলেন, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১০০ মণের বেশি পচে গেছে। বাধ্য হয়ে নামমাত্র দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, এতে মণপ্রতি প্রায় হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে।

সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামের চাষি মনোয়ার পারভেজ মানিকও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৪০০ মণ দেশি পেঁয়াজ সরকারি সংরক্ষণাগারে রেখেছিলেন। কিন্তু যথাযথ নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করার পরও ছত্রাক ও ভাইরাসের সংক্রমণে পচন আটকানো যায়নি, দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি অঙ্কুর গজিয়ে উঠেছে।

বর্তমানে ভালো পেঁয়াজের বাজার ১৫০০-১৬০০ টাকা মণ হলেও পচে যাওয়া পেঁয়াজের কারণে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। সদর উপজেলার দোগাছি এলাকার কৃষক রহিম বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, তার ১৮০ মণ পেঁয়াজের প্রায় অর্ধেকই পচে গেছে। বাজারে আনলে সেই পেঁয়াজের দাম বলছে ৩০০-৪০০ টাকা মণ, সর্বোচ্চ ৬০০-৭০০ টাকা। তিনি বলেন, “কৃষকের বাঁচার আর উপায় নাই।”

সুজানগর উপজেলার কোলাদি গ্রামের কৃষক আকাশ প্রাং জানান, তিনি ১৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে ৮০-১০০ মণ ফলন পেয়েছিলেন। মণপ্রতি হাজার থেকে বারোশত টাকা খরচ হলেও শুরুতে চার থেকে সাতশত টাকা দর থাকায় বিক্রি করেননি। এখন পচে যাওয়ায় সেই দর পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষি বিভাগ এই অসময়ের পচনের জন্য মূলত অতিরিক্ত হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ চাষ, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বেশি ফলনের আশায় কৃষকরা এ বছর প্রচুর হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন, যা দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের উপযোগী নয়। পাশাপাশি রোপণ ও উত্তোলনের সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা এই পচন প্রক্রিয়ায় ইন্ধন জুগিয়েছে।