মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচরে তীব্র লোডশেডিং: জনজীবন বিপর্যস্ত, ব্যবসায়ীরা দিশেহারা

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে কোনো কোনো এলাকায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এই প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এরই মধ্যে জুন ও জুলাই মাসে অস্বাভাবিকভাবে বেশি বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুতের ব্যবহার স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলেও অনেকের বিল আগের মাসগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি এসেছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান মিলছে না বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। দিনে শিবচরে প্রায় ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ মেগাওয়াট। রাতে চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যায় ১৭ মেগাওয়াট। এই বিশাল চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে দীর্ঘ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসায়ীরা। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দোকানপাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমেছে। ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফটোকপি ও কম্পিউটার ব্যবসা, মোবাইল সার্ভিসিং, কোল্ড ড্রিংকস ও ফ্রিজনির্ভর ব্যবসাসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে এবং উৎপাদন কমছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলেও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর পাশাপাশি ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে ফ্রিজ, মোটর, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

লাভলুজ্জামান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, “হঠাৎ করে গত ১০ দিন ধরে লোডশেডিং অনেক বেড়ে গেছে। দোকানে বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রেতারা বসতে চান না। বিদ্যুৎনির্ভর কাজগুলোও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একদিকে ব্যবসার ক্ষতি, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিলও প্রচুর বেড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফার রাজনীতিতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ: ইনফান্তিনোর পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা

মাদারীপুরের শিবচরে তীব্র লোডশেডিং: জনজীবন বিপর্যস্ত, ব্যবসায়ীরা দিশেহারা

আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে কোনো কোনো এলাকায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এই প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এরই মধ্যে জুন ও জুলাই মাসে অস্বাভাবিকভাবে বেশি বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুতের ব্যবহার স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলেও অনেকের বিল আগের মাসগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি এসেছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান মিলছে না বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। দিনে শিবচরে প্রায় ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ মেগাওয়াট। রাতে চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যায় ১৭ মেগাওয়াট। এই বিশাল চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে দীর্ঘ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসায়ীরা। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দোকানপাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমেছে। ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফটোকপি ও কম্পিউটার ব্যবসা, মোবাইল সার্ভিসিং, কোল্ড ড্রিংকস ও ফ্রিজনির্ভর ব্যবসাসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে এবং উৎপাদন কমছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলেও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর পাশাপাশি ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে ফ্রিজ, মোটর, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

লাভলুজ্জামান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, “হঠাৎ করে গত ১০ দিন ধরে লোডশেডিং অনেক বেড়ে গেছে। দোকানে বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রেতারা বসতে চান না। বিদ্যুৎনির্ভর কাজগুলোও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একদিকে ব্যবসার ক্ষতি, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিলও প্রচুর বেড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”